নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কালী উপাসনার অন্যতম পীঠস্থান বরানগর। গঙ্গা পাড় সহ শহরজুড়ে একের পর এক প্রাচীন কালীবাড়ি আলোর মালায় সেজে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও কালীতলার ১৪ হাতের বিশালাকার কালী মা মানুষের আবেগের ভরকেন্দ্র। কয়েক কেজি সোনা-রুপোর গয়নায় সাজবেন মা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় সামাল দিতে ও মায়ের গয়নার নিরাপত্তায় আঁটসাঁট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি থিমের মণ্ডপও চমক দিচ্ছে।
বরানগরে সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, জয়মিত্র কালীবাড়ি, প্রামাণিক কালীবাড়ি, ব্রহ্মময়ী কালীবাড়ির মতো বহু প্রাচীন কালীমন্দির রয়েছে। এইসব মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। বহু মানুষ মায়ের কাছে মানত করেন। কালীপুজোর দিন সকাল থেকে জড়ো হন হাজার হাজার ভক্ত। রাতভর চলে মাতৃ আরাধনা। ঐতিহ্যবাহী এইসব কালীবাড়িতে এবারও সমস্ত প্রস্তুতি তৈরি।
বরানগর দেশবন্ধু রোডের শ্রী শ্রী শ্যামাপুজো সমিতির পুজো এবার ৮৬ বছরে পা দিয়েছে। কালীতলা মাঠের প্রাচীন এই সর্বজনীন পুজোকে ঘিরে বরানগরে আবেগের বিস্ফোরণ হয়। ১৪ হাতের বিশালাকার কালী মায়ের কাছে পুজো দিতে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় হয়। মায়ের কাছে সারা বছর মানত করেন হাজার হাজার মানুষ। কালীপুজোর দিন সকলে হাজির হন। এইদিন মাকে কয়েক কেজি সোনা ও রুপোর গয়নায় সাজিয়ে তোলা হয়। মায়ের সেই ভূবনমোহিনী রূপ দেখতে শুধু বরানগর নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও মানুষের ভিড় জমে। পুজো কমিটির সহ সভাপতি গৌর পাত্র বলেন, ৮৬ বছরে পা দেওয়া এই পুজোয় লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়। স্থায়ী মণ্ডপে প্রত্যেক শনিবার ও অমবস্যা তিথিতে মায়ের বিশেষ পুজো হয়। আগের রীতি মেনে আজও কালীপুজোয় মায়ের আরাধনা হয়।
বরানগর বিটি রোডের উপর ‘হাওয়া সকাল’ ক্লাবের সর্বজনীন শ্যামাপুজো এবার ১৫ বছরে পা দিয়েছে। প্রত্যেক বছর তাঁদের অভিনব থিমের মণ্ডপ শহরবাসীর কাছে বড় আকর্ষণ। এবারের থিম মহাকালী। মায়ের অভিনব প্রতিমার পাশাপাশি একাধিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর বার্তা দিতে মণ্ডপে জ্বলবে কয়েকশো প্রদীপ। বনহুগলি যুবক সংঘের পুজো এবার ৪০ বছরে পা দিয়েছে। স্থায়ী মাতৃ মণ্ডপে ১৬ ফুট লম্বা কালী মায়ের মূর্তি এবারও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। মায়ের অঙ্গসজ্জাতেও রয়েছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। চোখ, টিকলি ও নাকছাবি সহ প্রায় ৫০০ গ্রাম সোনার গয়নায় সাজবেন জগজ্জননী। এছাড়া ২০-২২ কেজি রূপোর গয়না, কয়েক হাজার মানুষকে প্রসাদ বিতরণ, ১০১ ঢাকি এনে প্রতিমা নিরঞ্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক শঙ্কর রাউত বলেন, এবারও নিষ্ঠার সঙ্গে মাতৃ আরাধনা করা হবে। প্রচুর মানুষ পুজোর আগে থেকে মানত পূরণ হওয়ায় মাকে গহনা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। জাগ্রত মায়ের রূপ সকলের নজর কাড়বে। আলমবাজার নবজ্যোতি সংঘের পুজোতেও ভিড় জমতে শুরু করেছে।



