নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাড়ির মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে হয় কাঁচা বাঁশ। সেই বাঁশ ছাড়া দুর্গার কাঠামো তৈরি হয় না। এ বাড়িতে অতীতে পাঁচ তিথিতে পাঁচ দেবীর পুজোর রীতি ছিল। কিন্তু দু’বার দু’টি দুর্ঘটনার পর বিঘ্ন ঘটে। দু’টি পুজো বন্ধ হয়ে যায়। ১২৪ বছরের নিয়ম অটুট রেখে আজও মধ্য হাওড়ার মল্লিকবাড়িতে চলছে দুর্গাপুজো। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।
মধ্য হাওড়ার নামকরা কাঠের ব্যবসায়ী ছিলেন ধরণীধর মল্লিক। জয়নারায়ণবাবু আনন্দ দত্ত লেনে ছিল তাঁদের বসবাস। তাঁর হাত ধরেই শুরু দুর্গাপুজোর। জানা গিয়েছে, আগে বছরের পাঁচ তিথিতে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, জগদ্ধাত্রী ও অন্নপূর্ণার পুজো হতো। প্রতিমাকে পরানো হতো বেনারসি শাড়ি। একবার জগদ্ধাত্রী পুজোর আরতির সময় ধুনুচির আগুন পড়ে প্রতিমার বেনারসিতে। তারপর বন্ধ হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। আর একবার অন্নপূর্ণা পুজোর সময় পরিবারের এক সদস্য মারা যান। তারপর অন্নপূর্ণা পুজোও যায় বন্ধ হয়ে। বর্তমানে দুর্গা, লক্ষী ও সরস্বতীর পুজো হয়। তাঁরা মাটির তৈরি শাড়ি পরেন।
দুর্গার কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও এ বাড়িতে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। বাড়ির বিবাহিতা কন্যাদের শ্বশুরবাড়ি থেকে আনা হয় একটি শক্তপোক্ত বাঁশ। তা দিয়ে প্রতিমাকে জোড়া হয় কাঠামোর সঙ্গে। বৈষ্ণব মতে হওয়া এই পুজোয় মণ্ডা বলি দেওয়ার প্রচলন আছে। ঝরনা, বৃষ্টি, নদ, নদী, হ্রদের জল দিয়ে দেবীকে স্নান করানোর নিয়ম। সোনার গয়নায় সজ্জিতা থাকেন দুর্গা। পুজোর সংকল্প হয় বাড়ির মেয়েদের নামে। নবমীতে কুমারী পুজোর সময় দেবীকে প্রথমবার মাছ নিবেদন করা হয়। তারপর বাড়ির সদস্যরা আমিষ খেতে পারেন। বাড়ির পঞ্চম প্রজন্মের সদস্য সুবর্ণ মল্লিক বলেন, ‘পরিবারের প্রত্যেকেই সমানভাবে পুজোর খরচ বহন করেন। প্রতিদিন প্রায় তিনশো জনের রান্না হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আত্মীয়রা বাড়িতে ফেরেন।’ হাওড়ার চিন্তামণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের নিয়ম। দশমীর সকালে প্রথমে সেই ঘাট পরিষ্কার করা হয়। তারপর গঙ্গাপুজো করতে হয় বাড়ির সদস্যদের। এরপর দেবীর বিসর্জন সম্পূর্ণ হয়।