নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহার ও বিস্তৃতি বাড়ছে থিমপুজোর। প্রত্যন্ত এলাকাতেও ২০২৫ সালে এসে থিমপুজোর রমরমা সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠছে। আবার আগেই যে পুজো উদ্যোক্তারা থিমের দাপট দেখিয়ে চমক দিতে শুরু করেছিলেন, তাঁরা বাড়িয়ে চলেছেন পুজোর কলেবর। ফলে, সবটাই হয়ে উঠছে থিমের বাহুল্যের টক্কর। আর তাতেই নান্দনিক নহবতের সুর শোনা যাচ্ছে হুগলিজুড়ে।
হুগলিতে গুপ্তিপাড়ার পরিচয় মূলত সেখানকার রথযাত্রা এবং কিছু সাবেক দশভুজার পুজোর জন্য। কিন্তু সেখানকার সারদানগর ইয়ং স্টার ক্লাব এবার সোনার মোড়কে দেবী দশভুজাকে হাজির করছে। অবশ্যই সপরিবারে। একে তো দেবীকে বিরাটায়তন করে তোলা হচ্ছে। তার উপরে থাকছে সিটি গোল্ডের অলঙ্কারের সাজ। ফলে, প্রত্যন্ত গুপ্তিপাড়া ছাড়িয়ে পুজোর রেশ এসে পৌঁছেছে শহরে। দেবীর বসনভূষণ রাজকীয় করা হয়েছে বলে মণ্ডপসজ্জাতেও থাকছে রাজকীয় আদল। ৬০ ফুট উচ্চতা আর ৭০ ফুট চওড়া রাজবাড়ির আদলে তা গড়ে উঠছে। ‘সোনার দেবী’কে আভিজাত্যের মোহন মোড়ক দিতে এরপরে প্রয়োজন ছিল আলোকসজ্জার। সেখানেও খামতি রাখছেন না উদ্যোক্তারা। চন্দননগরের বিশ্বখ্যাত আলোর মায়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে মণ্ডপ চত্বরকে। সব মিলিয়ে বৈভবের মহা বিস্ফোরণে চমকে দিতে চাইছে গুপ্তিপাড়া স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া ওই পুজোর উদ্যোক্তারা। অন্যতম উদ্যোক্তা রাজু সাহা বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমরা পুজো করছি। এবার দেবী দুর্গা ও মণ্ডপসজ্জাকে একটি অভিনব রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আবার, শহুরে পুজো হিসেবে পরিচিত চুঁচুড়ার ঠাকুরগলি সুকান্ত সংঘ অনেক আগেই থিম পুজোয় হাত পাকিয়েছে। ওই ক্লাবের এবারের আয়োজনে থিমের নবউল্লাসের নমুনা মিলবে। দশভুজার সঙ্গে কৃষ্ণকে সমার্থক করে ‘কৃষ্ণ রূপে মা’ থিম হাজির করেছে তারা। নাহ্, পুরাণ থেকে আধুনিক ব্যাখ্যা– কোথাও দুর্গার কৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হওয়ার নমুনা নেই। দেবী যোগমায়া রূপে কিছুটা বিষ্ণুর সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু এর বাইরে দুর্গার কৃষ্ণ রূপের তেমন কোনও উল্লেখ দেখা যায় না। তাই বলা যায় থিমের মরশুমে এক অসম্ভব চমকের সুর সেধেছেন উদ্যোক্তারা। ক্লাবের মাঠে ইতিমধ্যেই আকার নিয়েছে সুবিশাল মন্দির। সেখানেই কৃষ্ণসাজে হাজির হবেন দশভুজা। তাঁর বংশীবাদনরত মূর্তি দেখা যাবে। পুজো উদ্যোক্তা স্বপন পণ্ডিত বলেন, দেবীর অভিনব থিমের আদলেই আলোক থেকে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। সেটাই এবারের আকর্ষণ।
শিউলি গন্ধ এখন চড়া। সঙ্গে সঙ্গত করছে নিয়মিত চণ্ডীপাঠের ধ্বনি। থিমের দাপটে হুগলির নিত্যদিনের চেনা জনপদ ভোল বদলাতে শুরু করেছিল আগেই। এবার তার আত্মপ্রকাশ শুধু সময়ের অপেক্ষা।