নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: রাজস্থানে কুচামন সিটি এলাকায় ব্যবসায়ী রমেশ রুলানি খুনের ঘটনায় শার্প শ্যুটার জুবের আহমেদ ফুলবাগান থেকে পালায় হাওড়া স্টেশনে। সঙ্গী গণপত গুজ্জরকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, দুর থেকে সে দেখে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পালায় হাওড়া। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে যায় মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর। শনিবার দুপুরে সেখানে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে গ্যাংস্টার রোহিত গোদারা গ্যাংয়ের এই শার্প শ্যুটার। জুবেরকে হেফাজতে নিতে ইন্দোর যাচ্ছে রাজস্থান পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাগান থানার হাতে ধরে পড়ে রুলানিয়া খুনে অভিযুক্ত তিন শার্প শ্যুটার। সেখান থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিল জুবের। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনজনকে বসিয়ে রেখে জুবের খাবার কিনতে যায়। কথা ছিল, নতুন একটি গাড়ি ভাড়া করা হবে। ফেরার পথে সেই গাড়ির খবরও আনবে জুবের। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও সে আসেনি। তারই মাঝে ধরা পড়ে যায় ওই তিনজন। এর মধ্যে একজন আবার পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে সল্টলেকে একটি বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে। তাকে ধরতে ফুলবাগান থানার অফিসাররা সেখানে পৌঁছন। সেখান থেকে পলাতক ওই অভিযুক্ত ধরা পড়ে। এর মাঝে অনেকটা সময় চলে যাওয়ায় জুবেরের খোঁজে তল্লাশি চালানো যায়নি। যদিও পরে জানা যায়, সঙ্গীদের গ্রেফতার হতে দেখেই ফুলবাগান ছাড়ে জুবের। শুক্রবার সিসি ক্যামেরা ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে হাওড়া স্টেশন গিয়েছে। স্টেশনে তার ছবি ধরা পড়ে। বিষয়টি কলকাতা পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজস্থান পুলিশকে। জুবেরের কাছে থাকা মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন থেকে জানা যায়, সে ইন্দোরগামী ট্রেনে উঠেছে। সেইমত মধ্যপ্রদেশ পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। শনিবার দুপুরে সে ইন্দোর নামা মাত্রই বুঝতে পারে পুলিশ তাকে অনুসরণ করছে। কালক্ষেপ না করে জুবের এবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তরফে বিষয়টি রাজস্থান পুলিশকে জানানো হয়েছে। জুবের জেরায় জানিয়েছে, পর্তুগাল থেকে পাঠানো রোহিত গোদারার নির্দেশমতো খুন করা হয়েছে ব্যবসায়ী রমেশ রুলানিয়াকে।