Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

পরমেশ্বর ভগবান

ভগবদ্‌গীতায় পরমেশ্বর ভগবান বলছেন, “ভক্তির মাধ্যমেই কেবল আমাকে জানা যায়।” ভগবদ্‌গীতায় অর্জুনকে উপদেশ দিয়ে ভগবান বলছেন, “যেহেতু তুমি আমার ভক্ত, তাই আমি তোমাকে এই পরম গুহ্যতম জ্ঞান দান করব।”

পরমেশ্বর ভগবান
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভগবদ্‌গীতায় পরমেশ্বর ভগবান বলছেন, “ভক্তির মাধ্যমেই কেবল আমাকে জানা যায়।” ভগবদ্‌গীতায় অর্জুনকে উপদেশ দিয়ে ভগবান বলছেন, “যেহেতু তুমি আমার ভক্ত, তাই আমি তোমাকে এই পরম গুহ্যতম জ্ঞান দান করব।” বৈদিক জ্ঞানের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানকে জানা, এবং তাঁর রাজ্যে প্রবেশ করবার একমাত্র পন্থা হচ্ছে শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তি। সমস্ত প্রামাণিক শাস্ত্রেই সেই কথা স্বীকার করা হয়েছে। মনোধর্মী জ্ঞানীরা এই ভক্তিযোগের পন্থাকে অবহেলা করে, এবং নিরন্তর দার্শনিক গবেষণা-প্রসূত জ্ঞানের দ্বারা অপরকে পরাস্ত করার প্রচেষ্টায় রত থাকে, তাই তারা ভগবৎ-প্রেমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়।

Advertisement

শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, “হে উদ্ধব! যে সমস্ত মানুষ ঐকান্তিকভাবে আমার সেবায় যুক্ত, তারা জ্ঞানের প্রয়াস ও কৃত্রিম বৈরাগ্যকে অনুকূল বলে মনে করে না। কেউ যখন আমার ভক্ত হয়, তখন আপনা থেকে সে জড়-জাগতিক সুখভোগের প্রতি নিস্পৃহ হয় এবং পরমতত্ত্ব উপলব্ধির বিশুদ্ধ জ্ঞান প্রাপ্ত হয়।” এটিই হচ্ছে ভক্তিমার্গে উন্নতির ইঙ্গিত। ভক্ত কখনই অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকেন না, কারণ পরমেশ্বর ভগবান তাঁর প্রতি বিশেষ কৃপা প্রদর্শন করে তাঁর অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাঁকে জ্ঞানের আলোক প্রদান করেন।
শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে ভগবান উদ্ধবকে বলছেন, “প্রিয় সখে! সকাম কর্ম, তপশ্চর্যা, দার্শনিক জ্ঞানের প্রচেষ্টা, বৈরাগ্য, যোগ, দান, ধর্ম ও অন্যান্য শুভ কর্মের দ্বারা মানুষ যে ফল উপার্জন করে, আমার ভক্ত আমার শুদ্ধ ভক্তিযোগের দ্বারা তা অনায়াসে লাভ করতে পারে। যদিও আমার ভক্ত আমার সেবা ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না, তবুও ভক্তির অনুকূল বলে বিবেচনা করলে, আমার অহৈতুকী কৃপার প্রভাবে, সে স্বর্গ, অপবর্গ, এমন কি আমার ধাম বৈকুণ্ঠও লাভ করতে পারে।”
কৃষ্ণভাবনাময় ভগবদ্ভক্তিতে যুক্ত মানুষের যদি জড়-জাগতিক সুখভোগের প্রতি কোন রকম আসক্তি থেকেও থাকে, তা হলে সদ্‌গুরুর তত্ত্বাবধানে ভগবদ্ভক্তি অনুশীলন করার ফলে অচিরেই তিনি সেই প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হন।
তারপর শ্রীল রূপ গোস্বামী বলছেন যে, জড় ইন্দ্রিয় তৃপ্তির প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়; পক্ষান্তরে, বিষয়ের প্রতি অনাসক্ত হয়ে কৃষ্ণ-সম্বন্ধে সব কিছু গ্রহণ করা উচিত। যেমন, জীবন ধারণ করার জন্য আমাদের আহার করতে হয়, এবং সকলেই চায় তার রসনা তৃপ্তির জন্য সুস্বাদু খাবার খেতে। তাই আমাদের রসনা-তৃপ্তির পরিবর্তে শ্রীকৃষ্ণের রসনা-তৃপ্তির জন্য নানা রকম উপাদেয় আহার্য তৈরি করে শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করা উচিত। সেটিই হচ্ছে যথার্থ বৈরাগ্য। উপাদেয় খাদ্য তৈরি করা হোক, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন না করে তা খাওয়া উচিত নয়। শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন না করে কোন কিছু গ্রহণ না করার যে প্রতিজ্ঞা, তাই হচ্ছে প্রকৃত বৈরাগ্য এবং এই ধরনের বৈরাগ্যের ফলে ইন্দ্রিয়ের বেগ প্রশমিত করা যায়। নির্বিশেষবাদীরা সমস্ত প্রাকৃত বস্তু বর্জন করার চেষ্টা করে কঠোর তপশ্চর্যা পালন করতে পারে, কিন্তু ভগবানের সেবায় যুক্ত হওয়ার পরম সৌভাগ্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়। তাই তাদের বৈরাগ্য যথার্থ সিদ্ধি লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। 
শ্রীল রূপ গোস্বামী বিরচিত ‘ভক্তিরসামৃতসিন্ধু’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ