Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

ঠাকুর

ভক্ত কালিদাস মজুমদার তখন খুবই ছোট। বরানগর আশ্রমের প্রাইমারী স্কুলে পড়তো। ডানপিটেমি আর নানা দুষ্টুমীতে সে চিরকালই ছিল নাম্বার ওয়ান।

ঠাকুর
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভক্ত কালিদাস মজুমদার তখন খুবই ছোট। বরানগর আশ্রমের প্রাইমারী স্কুলে পড়তো। ডানপিটেমি আর নানা দুষ্টুমীতে সে চিরকালই ছিল নাম্বার ওয়ান। কিন্তু আর কাউকে ভয় না করলেও ঠাকুরকে ভীষণ ভয় করতো। দেখতো সব বড় বড় জ্ঞানী গুণী মানুষ, মাষ্টার, হেডমাষ্টার, সবাই ঠাকুরের সামনে কেমন বিনয়নত হয়ে বসে থাকেন। তাছাড়া প্রায়ই শুনতো ঠাকুর সব দেখতে পান, দূরের জিনিষও দেখতে পান, সব কিছু জানতে পারেন, মনের কথা জানতে পারেন। এসব শুনে ভয়ও করতো, আবার প্রশ্নও জাগতো মনে।
একদিন ঠাকুরকে পরীক্ষা করার মত একটা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এসে উপস্থিত হ’ল কালিদাসের সামনে। সকালে উঠেই একটা জোর হৈ চৈ শোনা গেল। স্যার মহারাজের ঘর থেকে টেবিল ঘড়িটি চুরি গেছে। তখনকার দিনে টেবিল ঘড়ি একটি মূল্যবান বস্তু। সবাই একবাক্যে বললো বাগানের মালী জটাধারীই চুরি করেছে। দু’চার ঘা দেওয়াও হ’ল। কিন্তু সে কিছুতেই স্বীকার করে না। শেষে তাকে সবাই মিলে ধরে নিয়ে এল গঙ্গার ধারে যেখানে শ্রীঠাকুর সদ্য এসে বসেছিলেন বহু সাধু ও ভক্তদের নিয়ে। ঠাকুর অভিযোগ শুনছেন। কালীদাস ভাবছে আজ পরীক্ষা হয়ে যাবে ইনি সত্যিই সব জানতে দেখতে পারেন কি না। রোমাঞ্চ তখন অধীর হয়ে উঠেছে ছোট্ট কালীদাস। ঠাকুর সব শুনে জটাধারীকে উদ্দেশ্য করে সোজা বলে উঠলেন—‘শোনো জটাধারী, ঘড়িটা তুমিই নিয়েছ। নিয়ে সোজা গেট দিয়ে বেরিয়ে চলে গিয়েছ জয়ন্তবাবুর বাড়ীর ঠিক আগের বাড়ীতে। ঐ বাড়ীর মালিকের কাছে ঘড়িটা রেখেছো। ভদ্রলোক খাটের উপর শুয়ে আছেন, ওঁর পায়ের কাছে ওঁর স্ত্রী বসে আছেন আর ভদ্রলোক বাঁ হাত দিয়ে পাশের টেবিলে রাখা ঐ ঘড়িটাকে নেড়ে চেড়ে দেখছেন।’ জটাধারী মাথা নীচু করে চুপ করে রইলো। স্বীকৃতির লক্ষণ দেখে সবাই বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠলো। ঠাকুর সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন-‘কেউ ওকে মারবে না, ওকে তাড়াবে না।’
কালীদাস স্তম্ভিত হয়ে রয়েছে সব দেখে শুনে। তবু অধীর উৎকণ্ঠায় শেষ পরীক্ষার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিছুক্ষণ পরই জটাধারী নিজেই গেট দিয়ে বেরিয়ে জয়ন্তবাবুর বাড়ীর ঠিক আগের বাড়ীর ভেতর গিয়ে ঘড়িটা নিয়ে ফিরে এল। কালীদাসের মনে আর সন্দেহের লেশও রইলো না। ফলে একদিকে যেমন অটল বিশ্বাস এল মনে, অন্য দিকে ঢুকে গেল আরও ভয়। ঠাকুরের কাছে যেতেও সে ভয় পেতো। কত দুষ্টুমী কত দোষ করেই আছি। ঠাকুর যে সব জানেন। যাইহোক, ঠাকুরের এই সর্বদর্শিতার বড় প্রমাণ কালীদাস পেলো এক চরম মুহূর্তে। 

Advertisement

স্বামী মৃগানন্দের ‘অলৌকিক কৃপাময় সত্যানন্দ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ