নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে মুম্বই থেকে বউদির সঙ্গে সংসার করতে গোবরডাঙায় চলে আসে দেওর প্রদীপ দত্ত। পাঁচবছর ধরে বউদির সঙ্গে লিভ-ইন করছিল সে। জমানো টাকা দিয়ে বউদিকে বাড়ি করে দিয়েছিল প্রেমিক-দেওর। সম্প্রতি, তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ‘সন্দেহ’ দানা বাঁধতে থাকে দেওরের মনে। ভয় ছিল, তাকে হয়ত বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে, ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে। সেই কারণে অশান্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রবিবার রাতেও তুমুল অশান্তি হয়। পুলিশ জেনেছে, মিঠুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে চলে যায় অভিযুক্ত প্রদীপ। মিঠুর বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একপ্রস্ত জেরা করা হয়েছে প্রদীপকে। সে জানিয়েছে, সবক শেখাতে গিয়েই বউদিকে খুন করে ফেলেছে সে। ধৃত প্রদীপকে বুধবার বারাসত আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গোবরডাঙা পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়ায় শ্বশুড়বাড়ি মিঠু দত্তের। তাঁর স্বামী দিলীপ দত্ত ১১ বছর ধরে নিখোঁজ। মুম্বইয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিঠুও। তিনি দেওরের সঙ্গে গোবরডাঙায় ফিরে এসে এক সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মুম্বইয়ে হিরের কাজ করত প্রদীপ। মোটা টাকা রোজগার হতো। সে পুলিসকে জানিয়েছে, জমানো টাকা দিয়ে বউদিকে গোবরডাঙায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিল। বউদির সমস্ত দায়ভার ছিল প্রদীপের কাঁধে। এমনকী দুই ছেলের খরচ বহন করত প্রদীপ। কিন্তু ইদানীং তাঁর সন্দেহ হয়, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাকে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ধৃত পুলিশকে জানিয়েছে, সবক শেখাতে গিয়েই বউদিকে খুন করে ফেলেছে সে। মৃতের দুই ছেলের ভূমিকা কি ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, ধৃতকে জেরা করে খুনের কারণ জানা হবে। তবে পারিবারিক অশান্তি থেকেই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। মৃতের ছেলেদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের ফোন সহ বিভিন্ন গতিবিধি আমাদের নজরে।