সংবাদদাতা, করিমপুর: কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুর পর্যন্ত রেলপথ আজও হল না।এখনও সড়ক পথই ভরসাসীমান্ত এলাকার মানুষের। ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু রেল যোগাযোগের দাবি আর পূরণ হয় না। হতাশ হয়ে এখন রেলপথের স্বপ্ন ভুলতে বসেছেন নদীয়ার উত্তর এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েক লক্ষ মানুষ। বাসিন্দারা জানান, করিমপুর থেকে জেলা সদর কৃষ্ণনগরের দূরত্ব প্রায় পঁচাশি কিমি। সড়ক পথে যাতায়াত সময় ও খরচ সাপেক্ষ। রেলপথ হলে কম সময়ে অল্প খরচে যাতায়াত করা যেত। কিন্তু সীমান্তের তেহট্ট, বেতাই, নাজিরপুর ও করিমপুরের মানুষকে সড়ক পথের উপরই নির্ভর করতে হয়।
Advertisement
আটের দশকে তৎকালীন রেলমন্ত্রী গনি খান চৌধুরী এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রেললাইন স্থাপনের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে লোকসভার অধিবেশনে কাগজপত্র আদান প্রদান হয়েছে বেশ কয়েক দফায়। কিন্তু শেষ অবধি ধামাচাপা পড়েছে সেই সমস্ত ফাইল। কয়েকবার জমি মাপজোক আর সার্ভে ছাড়া কিছুই হয়নি। করিমপুরের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই এলাকার বহু মানুষ নিত্যদিন কলকাতা সহ রাজ্যের বাইরেও যাতায়াত করেন। যে কারণে রেল যোগাযোগ স্থাপন হলে সকলের সুবিধা হতো। কিন্তু সেই রেললাইন তো দূরের কথা, রেলের টিকিট বুকিং কাউন্টারের দাবিও পূরণ হয়নি। করিমপুরে একটি টিকিট বুকিং কাউন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরীও। সেটাও আজ অবধি হলনা। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে বেশি টাকা দিয়ে অনলাইনে,না হলে দূরবর্তী কৃষ্ণনগর বা বহরমপুরে গিয়ে রিজার্ভেশন টিকিট কাটতে হয়। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানান, আমাদের জীবদ্দশায় হয়তো রেলপথ হবে না। ভোট এলেই রেলের কথা শোনা যায়, আর ভোট শেষ হলেই সবাই ভুলে যায়। রেলপথ না থাকায় কৃষ্ণনগর, কলকাতা কিংবা বাইরে কোথাও যেতে হলে করিমপুর, বেতাই, তেহট্ট কিংবা জলঙ্গি, ডোমকলের মানুষদের বাসইভরসা।তাতে কয়েকগুণ বেশি খরচ হয়ে যায়। তৃণমূলের করিমপুর ১ ব্লক যুব সভাপতি সৌমিক সরকার জানান, এখানে রেলের প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বহুবার দিয়েছে। মমতা বন্দ্যপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। বিধায়ক হওয়ার পরে মহুয়া মৈত্রও রেলের জন্য সংসদে দরবার করেছেন। কিন্তু বিজেপি সরকার যে কিছুই করেনি তা এলাকার বাসিন্দারা জানেন।বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি সুরজিত জোয়ারদার বলেন, ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় রেলের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই সময়ে একটা সমীক্ষাও হয়েছিল। করিমপুরে রেলপথ স্থাপন হোক, এটা এলাকার সাধারণ মানুষের মতো বিজেপিরও দাবি।



