নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর: ‘ইটস টাইম!’, সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের। তবে কি এবার সরাসরি আন্দোলনের পথকেই বেছে নিতে চলেছে সিজেপি? এবার কাঠগোড়ায় খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে উঠে আসছে নির্বাচনে একটি দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে উঠে আসছে নির্বাচনে ‘দুর্ণীতি’র অভিযোগও। তাঁর ভূমিকা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। যে প্রশ্ন আগেও বারবার তুলেছেন রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা। তবে সরাসরি এবার মাঠে লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছে সিজেপি। অভিজিৎ দিপকে এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন,‘নির্বাচন কমিশন সংস্কার করো’। এছাড়াও তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’
বুধবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি খবর দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এসআইআর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে গিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার— সান্ধু এবং বিবেক যোশি। তাঁদের মতামতের কোনো গুরুত্ব না দিয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এ ছাড়াও তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে, দাবি দুই নির্বাচন কমিশনারের। যেই খবর ব্রেক করেছেন সাংবাদিক রিতিকা চোপড়া। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরে নাম কাটার ক্ষেত্রেও তাঁদের মত জ্ঞানেশ কুমার মেনে নেননি বলেই জানানো হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তবে এই পুরো বিষয়টিকে কোনো মত পার্থক্যই না, বরং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা বলা ভালো রুটিন প্রক্রিয়া বলে দাবি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। যদিও এই ঘটনায় ক্রমশ বিরোধীরা সুর চড়াচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সন্দেহ তাঁরা আগেও করেছিলেন।
নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে একটানা প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছিল সিজেপি। চাপে পড়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফাও দিতে হয়েছে। এবার কি তবে ইস্যু নির্বাচন কমিশন ‘সংস্কার’? সেই ইঙ্গিত রয়েছে অভিজিতের পোস্টকে ঘিরে। অন্যদিকে সেজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, এই সময়ে দাঁড়িয়ে এর চেয়ে বড় ইস্যু আর কিছু হতে পারে না। সবাইকে এই ইস্যুকে নিয়ে সরব হতে বলেন তিনি। সৌরভ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে বলেন,‘আমরা স্কুল বাঁচাও অভিযান করছি, প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ করছি। কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়া যদি অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে কিছুই বদলাবে না।’