উত্তরপ্রদেশ, ২৪ সেপ্টেম্বর: উত্তরপ্রদেশে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ। এবার অভিযোগের তীর খোদ উর্দিধারীদের দিকে। হরিয়ানা থেকে এসেছিলেন ২৩ বছরের ওই তরুণী। আমরোহার একটি ফার্মহাউসে তাঁকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে হাসানপুর থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। এছাড়াও অভিযুক্ত আরও দুই সিআরপিএফ জওয়ান সহ সেই থানার ও এক হেড কনস্টেবল। চার জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, আমরোহা থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। তরুণী হরিয়ানার ফাতেহাবাদ থেকে এসেছিলেন। তাঁকে আমরোহার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাসানপুরের এক ফার্মহাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন সেই তরুণীর সঙ্গেই ছিলেন ওই দুই জওয়ান, যাঁদের সঙ্গে তরুণীর আগেই আলাপ হয়েছিল। চলতি মাসের ২০ তারিখ তাঁর এক বান্ধবী সিআরপিএফ জওয়ান মোহিতের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় করতে বলেন। এরপর ২১ তারিখ সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে আলাপ করেন তিনি। সেই দিনেই মোহিতের মাধ্যমে লালারাম যাদব নামে আরও এক জওয়ানের সঙ্গে তরুণীর আলাপ হয়। ২২ তারিখ, মঙ্গলবার যখন তাঁকে হাসানপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময় গাড়িতেই ওঠেন পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয় তোমার। তরুণী জানান, হেড কনস্টেবল প্রমোদ আগে থেকেই সেই ফার্মহাউসে উপস্থিত ছিলেন। ফার্মহাউসে পৌঁছনোর পর ২টি ঘর ভাড়া নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, এদিন মোহিত এবং লালারাম ও সঞ্জয় একে একে ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। তবে প্রমোদ ঘরে ঢোকার চেষ্টা করতেই তরুণী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় ও ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই ফার্মহাউস থেকেই চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার লক্ষণ সিং যাদব জানান, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পুরো বিষয়টি সিআরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে বলেও পুলিশ সুপার লক্ষণ সিং যাদব জানিয়েছেন।