Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলার ভোট ফের করার দাবি, ভোটার বাদ নিয়ে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে কমিশনেই বিদ্রোহ, তোলপাড় দেশ

২৮ অক্টোবর, ২০২৫। কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের নামে নির্দেশিকা জারি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু। সেই শুরু।

বাংলার ভোট ফের করার দাবি, ভোটার বাদ নিয়ে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে কমিশনেই বিদ্রোহ, তোলপাড় দেশ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২৮ অক্টোবর, ২০২৫। কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের নামে নির্দেশিকা জারি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু। সেই শুরু। চলতি বছর ১৪ আগস্ট পর্যন্ত, গত ১০ মাসে মোট ১৪বার লিখিতভাবে কমিশনের এসআইআর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার— সান্ধু এবং বিবেক যোশি। ২৪ ঘণ্টায় চারবার তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন, এমনও দিন গিয়েছে। কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সচিবের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছিলেন দু’জনে। কোনো লাভ হয়নি। তাঁদের বিদ্রোহকে তোয়াক্কা না করে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর তার ফল? এসআইআরের খসড়া তালিকায় দেশের মোট ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাতিল! বুধবার ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এই খবর দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরবর্তী ট্রাইবুনালে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকা ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১ জনের নাম বাতিলের আবেদন করা হয়েছে খোদ কমিশনের তরফে। কে সেই আবেদন করল? কেই বা সেই অনুমতি দিল? অফিসারদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সান্ধু। কমিশনের নতুন সফটওয়্যার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা। জবাব মেলেনি। সেই খবর সামনে আসামাত্র জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রে রে করে উঠেছে বিরোধীরা। কমিশন-বিজেপি আঁতাঁত নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব। প্রত্যেকের একটাই দাবি, পুরানো ভোটার তালিকায় নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন করাতে হবে বাংলায়! বিহারেও পুনর্নির্বাচন চেয়ে সরব হয়েছেন আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদব। মমতা তো একধাপ এগিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবি পর্যন্ত জানিয়েছেন।
কিন্তু আর কী কী আপত্তি তুলেছিলেন সান্ধু এবং যোশি? এক, নির্বাচন কমিশনের নতুন আইটি মডিউল এবং পোর্টাল সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না দুই নির্বাচন কমিশনার। সংবাদমাধ্যমের থেকে তা জানতে পেরে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দুই, কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে নানা ক্ষেত্রে ‘অফিসিয়াল কমিউনিকেশন’ জারি? তিন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈঠকের আগে কোনো ‘এজেন্ডা’ এবং বৈঠকের পর কোনো ‘মিনিটস’ হাতে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? চার, কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন আধিকারিকরা? পাঁচ, জ্ঞানেশ কুমারকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, কমিশনের অনুমোদন ছাড়া যেন কোনো সরকারি কমিউনিকেশন না হয়! ছয়, সরকারের অনুমোদন ছাড়া ফর্ম-৬ (নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির ফর্ম) পরিবর্তন কেন? সেই ফর্মে নতুন ভোটারকে জানাতে হচ্ছে আগের এসআইআরে তাঁদের অভিভাবকের নাম রয়েছে কি না, যা সরকারি বিধি অনুযায়ী বেআইনি। সাত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সতর্ক করা হয়, ভোটার তালিকার ডেটাবেস যেভাবে সেন্ট্রালাইজড বা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে তার অডিট প্রয়োজন। আট, কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সচিবকে জানানো হয় যে, কমিশনের অজ্ঞাতেই অফিসারদের সরকারি কাজ বণ্টন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান দুই নির্বাচন কমিশনার। নয়, এক ডেপুটি কমিশনারকে আইটি বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরানোর আদেশে আপত্তি জানান সান্ধু এবং যোশি। দশ, কেন ইসিআই নেট সিস্টেমে ফিল্ড অফিসাররা কাজই করতে পারছেন না? কমিশনের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের ডিজি (সীমা খান্না) ওই অধিকার আটকে রেখেছেন কেন? তাঁর এটা করার কোনো অধিকার নেই। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি।
জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করতে গত ২৪ এপ্রিল বিরোধী দলের ৭৩ জন সাংসদ লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে। এদিন তা নিয়ে ফের সরকার এবং সংসদের উপর চাপ বাড়িয়েছে বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে বসার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তাতে যোগ দিতে পারেন মমতাও।  গত এক বছরে গোটা দেশে যেখানে যত নির্বাচন হয়েছে, সব বাতিল করার পক্ষপাতী তিনি। অভিযোগের সুরে বলেছেন, ‘এসআইআরের নামে ইভিএম হাইজ্যাক করেছেন জ্ঞানেশ কুমার।’ মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে পেপার ব্যালটে ফের নির্বাচন করানোর দাবি করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব থ্যাকারে। একই মত আপ সুপ্রিমো কেজরিওয়ালেরও। রাহুল গান্ধী সুর চড়িয়ে বলেছেন, ‘বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে এই ভোট চুরি দেশদ্রোহিতার শামিল।’ বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবালের সওয়াল, ‘নির্বাচন কমিশনে জ্ঞানেশ কুমারের মতামত সংখ্যালঘু। তাই এখনই এসআইআরের মতো প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত।’ জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীও। 
যদিও নির্বাচন কমিশন বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। শুধু তিন কমিশনার নন, অন্য আধিকারিকরাও মতামত দেন। কমিশন গত এক বছরে এসআইআর সহ ৪০টি উদ্যোগের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কমিশন যতই সাফাই দিক না কেন, জ্ঞানেশ কুমারের দম্ভের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলেই বিরোধীদের মত। কিন্তু কার হয়ে অসাংবিধানিক, অবৈধ কাজ করছেন তিনি? প্রশ্ন ডেরেক ও’ব্রায়েনের।

Advertisement

বিতর্ক কোথায়

বাকিদের অন্ধকারে রেখে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অভিযোগ দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির

গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি দুই নির্বাচন কমিশনারের। একদিনে চারবারও আপত্তি উঠেছে

তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে, দাবি দুই নির্বাচন কমিশনারের

ইসিআই নেটের অ্যাকসেস কেন নেই ইআরওদের? কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নার নিয়ন্ত্রণেই সবটা কেন? প্রশ্ন তুলে অডিট চেয়েছিলেন দুই কমিশনার 

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকায় ঢোকা নাম বাদ দেওয়ার জন্য ১৬.১০ লক্ষ আবেদন জমা পড়ে। এই আবেদন কারা করল?

সরকারি বিধি সংশোধন ছাড়াই ফর্ম-৬ বদল? মে মাসেই বেআইনি বলেছিলেন সান্ধু


চার মাস কমিশনের বৈঠক হয়নি। এক বছর যত বৈঠক হয়েছে, কোনো মিনিটস নেই

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ