Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গলসির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমজমাট খুদেদের খাদ্যমেলা

গলসির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জমজমাট খুদেদের খাদ্যমেলা
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: কেউ বানিয়ে এনেছে চিকেন মাঞ্চুরিয়ান, কেউ ঘুগনি, পরোটা, রসমালাই, গাজরের হালুয়া। বৃহস্পতিবার গলসির দয়ালপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত খাদ্যমেলায় তাক লাগাল খুদে স্কুল পড়ুয়ারা। স্কুলেই এই অভিনব উদ্যোগ ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠে পড়ুয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
Advertisement
দয়ালপুর প্রাথমিক স্কুল ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৪জন। এলাকায় শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে চলেছে এই স্কুল। মানসিক উৎকর্ষ বৃদ্ধি ও সকলের মধ্যে সৌভাতৃত্ব বোধ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাথায় আসে খাদ্যমেলা আয়োজন করার কথা। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, খাবার তৈরিতে কিছুটা বাড়ির অভিভাবকরা সাহায্য করেছে। স্কুলে এসেও অনেকে খাবার তৈরি করেছে। স্কুলের পক্ষ থেকেও খাবারের একটা তালিকা করে দেওয়া হয়েছিল। এদিন ১৭টি স্টল তৈরি করে সেখানে সেই খাবার বিক্রি করেছে পড়ুয়ারা। শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও একটি সরবতের স্টল করা হয়। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই সব স্টলেই খাবার প্রায় শেষ হয়ে যায়। মেলায় ক্রেতা শিক্ষক, সহপাঠী বন্ধু থেকে গ্রামের বাসিন্দারা। আসমা খাতুন, ফারহানা খাতুন, জান্নাত পারভিনরা স্কুলের এই উদ্যোগে ভীষণ খুশি। নিজেদের তৈরি খাবার বিক্রি করতে পেরে আনন্দিত পড়ুয়ারাও। খুদে পড়ুয়াদের বক্তব্য, বাড়িতে মা খাবার বানিয়ে আমাদের খাওয়ায়। মেলায় আমরা বন্ধুদের খাবার দিয়েছি। সমস্ত খাবার এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে জানলে আরও বেশি করে বানাতাম। শিক্ষকরা বলেন, একসঙ্গে কাজ করার মনোভাবের পাশাপাশি খাবার তৈরি করে বিক্রির অভিজ্ঞতাও হল পড়ুয়াদের। পরে এই অভিজ্ঞতা ওদের কাজে লাগবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবকেতন চট্টোপাধ্যায় বলেন, একেবারে অভিনব এই উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি আমরাও ভীষণ খুশি। এই মেলা দেখে স্কুলে হস্তশিল্প মেলা আয়োজন করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আমাদের পড়ুয়াদের মধ্যে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আগামী দিনে নানাভাবে স্বনির্ভর হতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ