ওয়াশিংটন: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহকারী এবং হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পলিসি অফিসের ডিরেক্টর মাইকেল ক্র্যাটসিওস। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট জ্যাকব হেলবার্গ, আন্ডার সেক্রেটারি অফ কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সহ অনেকে। সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতা, বিদেশমন্ত্রী ও শিল্পপতিদের আলোচনায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাটেজিতে এর প্রভাব সম্পর্কিত বিষয়বস্তু উঠে আসে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় মাইকেল ক্র্যাটসিওস জানান, সহযোগী দেশগুলি যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক উদ্ভাবনে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের চাবিকাঠিও যাতে তাদের হাতে থাকে, তা নিশ্চিত করাও আমাদের লক্ষ্য। ক্র্যাটসিওস বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকৃত সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায়, নিজেদের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তির সবচেয়ে কার্যকরী ব্যবহার।’ পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার বদলে আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে জোট বাধার বিষয়েও দেশগুলিকে উৎসাহ দেন তিনি। ক্র্যাটসিওসের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বাঁধলে তারা যেমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে, তেমনই নিজেদের অতি সংবেদনশীল তথ্যগুলি নিজেদের দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারবেন। আর সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমেরিকান এআই এক্সপোর্ট প্রোগ্রাম’ চালু করেছেন। কিন্তু এআইকে গ্রহণ করার বিষয়টি আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকলে কখনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আসতে পারে না। এআইয়ের সহায়তায় উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি পরিকাঠামো ক্ষেত্রগুলিতে প্রভূত উন্নতি করতে পারবে বলে জানান তিনি।