Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোকুলনগর পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম

গোকুলনগর পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে উধাও ৫০লক্ষ টাকা। সচিব জেলে গিয়েছেন। পঞ্চায়েতের প্রধান এবং এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট দফায় দফায় ওটিপি শেয়ার করায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৫০লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত জেলাশাসককে(জেলা পরিষদ)। আগামী সোমবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে জেলা প্রশাসনিক সূত্রের খবর। পাশাপাশি ওই পঞ্চায়েতে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অডিট টিমের রিপোর্ট রাজ্য অর্থদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরাসরি রাজ্য থেকেও একপ্রস্থ তদন্ত হতে পারে। গোটা ঘটনায় বিজেপির অস্বস্তি বাড়ছে।
Advertisement
শুক্রবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, সহ সভাধিপতি সুহাষিনী কর সহ নন্দীগ্রামের নির্বাচিত সদস্যদের একাংশ গোকুলনগর পঞ্চায়েতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। দুর্নীতির অভিযোগে সচিব জেলে যাওয়ার পর ডিএসসি(ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট) বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। যেকারণে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে লেনদেন আটকে যায়। সম্প্রতি পঞ্চায়েত নতুন ডিএসসি বানিয়েছে। শুধু তাই নয়, একজন পঞ্চায়েত কর্মীকে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ ও ২৮নভেম্বর পঞ্চায়েত থেকে সাধারণ সভা এবং স্থায়ী সমিতির মিটিং ডাকা হয়েছে। এত বড় দুর্নীতির পর গোটা বিষয়টিকে লঘু করে পঞ্চায়েত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি পরিচালিত ওই পঞ্চায়েত। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসন কী ভাবছে তা জানতেই জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং পঞ্চায়েত থেকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আগামী ২৭নভেম্বর গোকুলনগর পঞ্চায়েতে সাধারণ সভার মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে এজেন্ডায় ১নম্বরে পঞ্চম স্টেট ফিনান্স এবং পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় এজেন্ডা রয়েছে আবাস যোজনা নিয়ে। জেলা প্রশাসনের সাফ বক্তব্য, পঞ্চায়েত আবাস যোজনা নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। কিন্তু, ফিনান্স কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে কোনওরকম আলোচনা করতে পারবে না। প্রায় দু’মাস ধরে গোকুলনগর পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা চলছে। আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় সচিব গ্রেপ্তার, অডিট রিপোর্টে ৫০লক্ষ টাকা দুর্নীতি প্রভৃতি সামনে আসার পর পঞ্চায়েত আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বিজেপি পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ফেরাতে সবরকম উদ্যোগ নিচ্ছে পদ্মপার্টি। কিন্তু, এতবড় আর্থিক অনিয়মের পর প্রশাসনের ভূমিকা কী সেটাই জানতে সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতিরা ডিএমের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
সহ সভাধিপতি বলেন, গোকুলনগর পঞ্চায়েতে ৫০লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) পঞ্চায়েত পরিচালনা করবেন বলে জেলাশাসক আমাদের জানিয়েছেন। অডিট রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। 
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, পঞ্চায়েত কর্মী বোর্ডকে ভুলপথে পরিচালিত করেছেন। সেজন্য তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। পঞ্চায়েতকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজকর্ম আটকে থাকতে পারে না। তাই সাধারণ সভা, স্থায়ী সমিতির মিটিং ডেকে কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অন্যান্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ