Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুজরাতের সুরাতে বাঙালি সমাজ গড়ে তুলেছে বিদ্যাসাগর বাংলা বিদ্যালয়

গুজরাতের সুরাতে বাঙালি সমাজ গড়ে তুলেছে বিদ্যাসাগর বাংলা বিদ্যালয়
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: এই রাজ্যের বহু বাঙালি গুজরাতের সুরাতে বসবাস করেন। ইচ্ছে থাকলেও তাঁরা সন্তানদের বাংলা শেখাতে পারতেন না। তাই তাঁরা ‘বাঙালি সমাজ’এর ব্যানারে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় গড়ে তুলেছেন ‘বিদ্যাসাগর বাংলা বিদ্যালয়’। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামাঙ্কিত এই বিদ্যালয়ে শিশুদের শেখানো হচ্ছে বাংলা বর্ণমালা, যুক্তাক্ষর এবং বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই উদ্যোগ শুধু একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নয় বরং প্রবাসে থেকেও মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার এক আবেগঘন প্রচেষ্টা।
Advertisement
সুরাতে দু’ লক্ষাধিক বাঙালি থাকেন। তারা বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই বাঙালি সমাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, ‘বাঙালি সমাজকে’ সুরাতের সমস্ত বাঙালি মূল লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সুরাত বাঙালি সমাজের সভাপতি তথা দাসপুর-২ ব্লকের চাঁইপাটের বাসিন্দা বাসুদেব অধিকারী জানান, তিনি গত ৪২ বছর ধরে সুরাতে বসবাস করছেন। বিভিন্ন কাজের সূত্রে তাঁর মতো হাজার হাজার বাঙালি ওই শহরে থাকেন। স্বভাবতই তাঁদের সন্তানরা গুজরাতি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মাতৃভাষার সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত ওই শিশুদের জন্য একটি বাংলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তাভাবনা শুরু হয় ২০২১ সালে। অবশেষে ২০২২ সালে নিজেদের সীমিত ক্ষমতায় ভবানীবাড় মন্দির রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে শুরু হয় বিদ্যালয়। শুরুতে নানা বাধাবিপত্তি থাকলেও প্রবাসী বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ সফল হয়।  বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শতাধিক ছাত্রছাত্রী তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়াশোনা করছে। তাদের শেখানো হচ্ছে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ এবং যুক্তাক্ষর। এছাড়া বাংলার মনীষীদের জীবনী ও সাহিত্যকর্মের সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো হচ্ছে। পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বই কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিদ্যালয়ে পাঁচজন বাংলাভাষী শিক্ষিকা নিয়মিত পাঠদান করেন। বাসুদেববাবু জানালেন, বাঙালি সমাজ বাংলা বিদ্যালয় চালানোর পাশাপাশি বাঙালিদের নিয়ে পৌষমেলা, বসন্ত উৎসব, সরস্বতীপুজো, কালীপুজো ও দুর্গাপুজো করে থাকে। 
বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সমিতির সম্পাদক সুপ্রিয় বসু বলেন, ‘এই বিদ্যালয়য়ে শুধু মাতৃভাষা শেখার কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি সম্পূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা। এটাই আমাদের লক্ষ্য। তাই আগামী দিনে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চালু করার ইচ্ছা রয়েছে। সেই দিকেই আমরা এগচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যেই গুজরাত সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন এবং স্থায়ী ভবন তৈরির জন্য কাজ শুরু হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ