


দুঃখ-দৈন্য বিপদাপদ মানুষের আসিয়াই থাকে। উহাতে বিচলিত হইলে চলিবে না। যে ছেলে কোন অভাবের তাড়নায় নয়, কোন সাময়িক উত্তেজনা-পরবশ হইয়াও নয়—সংসারকে ত্যাগ করিতে পারে,—তাহার ভিতর কি কোন শক্তির অভাব থাকিতে পারে? এখন দুর্ব্বলতা পরিত্যাগ কর, বীরবেশে, সমুন্নতবক্ষে কর্মক্ষেত্রে দণ্ডায়মান হইয়া যথোচিত বীরত্বের পরিচয় দাও। নিমেষের মধ্যে যা-কিছু বাসনা আছে ধ্বংস-বিধ্বংস করিয়া ফেল। আর আলস্য দীর্ঘসূত্রতা লইয়া বসিয়া থাকিবার সময় নাই। খুব চিন্তাশীল হইতে হইবে। এখনও কি চঞ্চলতা লইয়া বসিয়া থাকিবে? অবিলম্বে সে-সব জন্মের মত বিদায় দাও। নিয়ন্তা তোমাদের উপর কত বড় গুরুভার, কত বড় কঠোর দায়িত্ব চাপাইয়াছেন, তাহা কি সতত চিন্তা কর না?
কৈ তোমাদের সেই আত্মবিশ্বাস—যার বলে খলীয়ান হইয়া সমগ্র দেশ জয় করিবে? অনেক সময়ে অনেক পরীক্ষার মধ্যে পড়িতে হইবে; সাবধান-মান-মর্য্যাদা যেন সব সময় ঠিক থাকে।
বর্ত্তমানে তোমরা যেরূপ সুযোগ-সুবিধা পাইয়াছ সেইরূপ সুযোগ-সুবিধা খুব কম লোকেই পাইয়া থাকে। এই সুযোগ-সুবিধা যেন কোন মতেই উপেক্ষিত না হয়। বিবেক-বৈরাগ্য ত্যাগীদের একমাত্র সম্বল। তোমাদিগকে ত্যাগের জ্বলন্ত প্রতিমূর্ত্তি হইতে হইবে। তোমরা সনাতন আদর্শে গঠিত হইয়া, আর্য্য-ঋষিদের আসনে উপবেশন করিয়া এই অধঃপতিত দেশকে নীতি ও ধর্ম্মের পথে পরিচালিত করিবে। নীতি ও ধর্ম্মের কথা প্রচার করিবার জন্য, ত্যাগ-সংযম-সত্য-ব্রহ্মচর্য্যের মাহাত্ম্য বিঘোষণ করিবার জন্য তোমরা জন্মগ্রহণ করিয়াছ—এই বিশ্বাস যেন নিয়ত থাকে। এই জাতীয় বিশ্বাসই যাবতীয় উন্নতির মূলীভূত কারণ।
নিজে প্রস্তুত হও, যথোচিত শক্তি-সামর্থ্য সঞ্চয় কর; তোমরা এক একজন এক একটি সিংহশিশু, অযুত হস্তীর বল তোমাদের আছে। তোমরা যে-কোনো কাজ করিতে পার—এই বিশ্বাস খুব চাই। দুর্ব্বলতাই পাপ, কখনও যেন কোন দুর্ব্বলতা আসিতে না পারে। অতি শীঘ্রই তোমাদিগকে আদর্শ স্থানে দাঁড়াইতে হইবে। তোমাদের আদর্শে, তোমাদের অনুকরণে হাজার হাজার লোক গঠিত হইবে। মানুষ যাহা করিতে পারে—তোমরা তাহা অবশ্যই করিতে পারিবে। বিফলতা আসিলে বুঝিবে—চেষ্টা-যত্ন-উদ্যোগের ত্রুটি আছে।
খুব ধ্যানজপ কর—তবেই সব বুঝিতে পারিবে। জপধ্যান ভিন্ন চিত্ত শুদ্ধ হয় না। চিত্ত শুদ্ধি ব্যতীত শুদ্ধ জ্ঞান জন্মে না, শুদ্ধ জ্ঞান ব্যতীত ধৰ্ম্মতত্ত্ব কখনও উদ্ভেদ হয় না।
স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজের যুগবাণী ‘শ্রীশ্রীসঙ্ঘ-গীতা’ থেকে