Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফের সেঞ্চুরি গিলের, জয়ের গন্ধ পাচ্ছে ভারত, অর্ধশতরান রাহুল, পন্থ ও জাদেজার, ইংল্যান্ডের টার্গেট ৬০৮ রান

পাঁচশো-সাড়ে পাঁচশো, নাকি আরও বেশি? দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে কত রানের পুঁজি ‘সেফ’, শনিবার দিনভর সেই চর্চাই শোনা গেল এজবাস্টনের গ্যালারিতে।

ফের সেঞ্চুরি গিলের, জয়ের গন্ধ পাচ্ছে ভারত, অর্ধশতরান রাহুল, পন্থ ও জাদেজার, ইংল্যান্ডের টার্গেট ৬০৮ রান
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বার্মিংহাম: পাঁচশো-সাড়ে পাঁচশো, নাকি আরও বেশি? দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে কত রানের পুঁজি ‘সেফ’, শনিবার দিনভর সেই চর্চাই শোনা গেল এজবাস্টনের গ্যালারিতে। পাশাপাশি চলল অন্য অঙ্ক— ইংল্যান্ডের দশ উইকেট পাওয়ার জন্য কত ওভার প্রয়োজন। আসলে বাজবলের সুবাদে ইংল্যান্ডের যা সুনাম, তাতে কোনও টার্গেটকেই যে যথেষ্ট লাগছে না। বাড়তি সতর্কতা সেজন্যই। ভারত শেষ পর্যন্ত বেন স্টোকস বাহিনীর সামনে রাখল ৬০৮ রানের লক্ষ্য। প্রথম ইনিংসে  দ্বিশতরানের পর এদিন শুভমান গিলের ব্যাটে এল ১৬১। সঙ্গতে থাকলেন রবীন্দ্র জাদেজা, ঋষভ পন্থ, লোকেশ রাহুল। ত্রয়ীর ব্যাটে এল হাফ-সেঞ্চুরি। ছয় উইকেটে ৪২৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করল টিম ইন্ডিয়া। আর ৬০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনেই তিন উইকেট খুইয়ে রীতিমতো চাপে ইংল্যান্ড। দিনের শেষে তাদের স্কোর ৩ উইকেটে ৭২। ক্রিজে আছেন পোপ (ব্যাটিং ২৪) ও ব্রুক (ব্যাটিং ১৫)। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের এখনও প্রয়োজন ৫৩৬ রানের। আর ভারতের ৭ উইকেট।

Advertisement

দিনের নায়ক অবশ্যই গিল। অধিনায়কত্ব দায়িত্বশীল করেছে তাঁকে। টেস্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে চার ইনিংসে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও দু’টি সেঞ্চুরি, ঈর্ষণীয় ধারাবাহিকতা ২৫ বছর বয়সির। এই সিরিজে ৫৮৫ রান হয়ে গেল তাঁর। এদিন দেড়শো পেরিয়ে থামলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে দ্বিশতরান ও দেড়শো কারও নেই। গিলই একমাত্র ক্রিকেটার। এর আগে দুই ইনিংসেই দেড়শো প্লাস রানের রেকর্ড রয়েছে মাত্র একজনের। ১৯৮০ সালে লাহোরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডারের পর গিল হলেন এই কীর্তিতে দ্বিতীয় ক্রিকেটার। এক টেস্টে সর্বাধিক রানের তালিকায় গ্রাহাম গুচের (৪৫৬) পরই তিনি (৪২৬)। ১৯৯০ সালে ভারতের বিরুদ্ধেই গুচের ব্যাটে এসেছিল চারশোর বেশি রান। সেটাই যেন ফিরিয়ে দিলেন গিল। ১৬২ বলের ইনিংসে ১১২.০৬ স্ট্রাইক রেটে ভারত অধিনায়ক মারলেন ১৩টি চার ও আটটি ছক্কা।
পন্থের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ১১০ রানের পর জাদেজার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গিল যোগ করেন ১৭৫। তাঁকে থামাতে চেষ্টায় খামতি রাখেনি ইংল্যান্ড বোলাররা। কিন্তু লাভ হয়নি। গিলের সঙ্গে মনের সুখে পিটিয়ে গেলেন পন্থরা। টেস্ট তো দূর, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ছ’শোর বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই। বাজবলকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই টার্গেটের সামনে শুরুতেই চাপে ইংল্যান্ড। সিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ক্রলি। কিছুক্ষণের মধ্যে বেন ডাকেটকে ফেরান আকাশদীপ। জো রুটকেও দুরন্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন বাংলার এই পেসার। বলাই বাহুল্য, ইংল্যান্ডের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। একমাত্র প্রকৃতিই পারে পরিত্রাতা হয়ে উঠতে। হাল্কা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে রবিবার।
স্কোরবোর্ড: ভারত প্রথম ইনিংস ৫৮৭। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৪০৭। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস (গতদিনের ৬৪-১ এর পর)- রাহুল বো টং ৫৫, করুণ ক স্মিথ বো কার্স ২৬, গিল ক ও বো বশির ১৬১, পন্থ ক ডাকেট বো বশির ৬৫, জাদেজা অপরাজিত ৬৯, নীতীশ ক ক্রলি বো রুট ১, ওয়াশিংটন অপরাজিত ১২, অতিরিক্ত ১০, মোট (৮৩ ওভারে) ৪২৭-৬ (ডিঃ)। উইকেট পতন: ২-৯৬, ৩-১২৬, ৪-২৩৬, ৫-৪১১, ৬-৪১২। বোলিং: ওকস ১৪-৩-৬১-০, কার্স ১২-২-৫৬-১, টং ১৫-২-৯৩-২, স্টোকস ৭-১-২৬-০, বশির ২৬-১-১১৯-২, রুট ৯-১-৬৫-১। 
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ডাকেট বো আকাশ ২৫, ক্রলি ক পরিবর্ত (সুদর্শন) বো সিরাজ ০, পোপ ব্যাটিং ২৪, রুট বো আকাশ ৬, ব্রুক ব্যাটিং ১৫, অতিরিক্ত ২, মোট (১৬ ওভারে) ৭২-৩। উইকেট পতন: ১-১১, ২-৩০, ৩-৫০। বোলিং: আকাশ ৩-১-৮-১, সিরাজ ২-০-২৩-১, প্রসিদ্ধ ৩-০-৬-০।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ