Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘বন্দুক’ উপহার, বাঁকড়ায় শোরগোল

সরকারি কর্মসূচির মঞ্চে কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না, তা নিয়ে শাসকদলের শীর্ষ স্তর থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বারবার নির্দেশিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন হচ্ছে কি?

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে ‘বন্দুক’ উপহার, বাঁকড়ায় শোরগোল
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সরকারি কর্মসূচির মঞ্চে কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না, তা নিয়ে শাসকদলের শীর্ষ স্তর থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বারবার নির্দেশিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন হচ্ছে কি? এই প্রশ্নই ফের তুলে দিল হাওড়ার একটি গ্রামসভার অনুষ্ঠান। হাওড়ায় বাঁকড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বার্ষিক গ্রামসভা চলাকালীন প্রধানকে প্রকাশ্য মঞ্চে একটি দোনলা বন্দুক উপহার দেওয়ার দৃশ্য সামনে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ওই বন্দুকটি প্লাস্টিকের খেলনা বলে দাবি করেছেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান আখতার হোসেন মোল্লা। ঘটনাটি বুধবার বিকেলের। বাঁকড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান আখতার হোসেন মোল্লা সহ শাসকদলের পঞ্চায়েত ও জেলাস্তরের একাধিক নেতৃত্ব। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন একের পর এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে প্রধানকে নানা সামগ্রী উপহার দিচ্ছেন। ঠিক সেই সময় এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে তাঁর হাতে একটি দোনলা বন্দুক তুলে দেন। সরকারি অনুষ্ঠান এবং গ্রামসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এ ধরনের উপহার দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় পঞ্চায়েত প্রধান অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থনে জানিয়েছেন, তিনি বন্দুকটি ভালো করে দেখার সুযোগ পাননি। তাঁর দাবি, ‘এক বছরের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মানুষ নানা উপহার দিয়েছেন। বন্দুকটি হাতে নিলেও সেটি কী ধরনের বস্তু, তা বোঝার সময় পাইনি। পরে জানতে পারি, সেটি প্লাস্টিকের ছিল।’ সরকারি মঞ্চ দাঁড়িয়ে এ ধরনের উপহার নেওয়া যে অনভিপ্রেত, সে কথা স্বীকার করে নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’

Advertisement

অস্ত্র হোক বা খেলনা, বন্দুকের মতো প্রতীকের প্রকাশ্য প্রদর্শন নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। তৃণমূলের ডোমজুড় কেন্দ্রের সভাপতি তথা হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি বলেন, ‘গ্রামসভায় কী ধরনের উপহার দেওয়া হয়েছে, তা জানা নেই। প্রকৃত বন্দুক হলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তবে খেলনা বন্দুক ছিল বলেই আমি শুনেছি।’ এদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তীব্র আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির হাওড়া জেলা নেতা উমেশ রাই বলেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে ভয় দেখানোর রাজনীতিতে নেমেছে।’ পুলিশ জানিয়েছে, ‘আসল বন্দুক প্রদর্শন হয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ