সংবাদদাতা, ঘাটাল: দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষার অবসান হল। এবার ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকেই সিটি স্ক্যান করা যাবে। শুক্রবারই হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন থেকে প্রথম রোগী পরিষেবা দেওয়া হল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী বলেন, ‘মেশিনটি কয়েক মাস আগেই এসে গিয়েছিল। ইন্সটলেশন সহ অন্যান্য কাজ শেষ করে এদিন থেকেই পরিষেবা চালু হল। হাসপাতালের রোগীদের সিটি স্ক্যানের পাশাপাশি বাইরের রোগীদেরও ওই হাসপাতাল থেকে স্ক্যান করা যাবে। তবে বাইরের রোগীদের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত রেট দিয়ে স্ক্যান করাতে হবে। রোগী পরিষেবা দেওয়ার জন্য সিটি স্ক্যান মেশিনটি সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে।’
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য পঞ্চানন মণ্ডল বলেন, ‘১২ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেছিলেন। দাসপুর-১ ব্লকের কলোড়ার এক রোগীর স্ক্যান করার মাধ্যমে ঘাটাল হাসপাতালে আনুষ্ঠানিক সিটিস্ক্যান চালু হল।’
হাসপাতালে প্রত্যেক দিনই দুর্ঘটনায় জখম রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মাথায় আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সিটি স্ক্যান করানোটা খুবই জরুরি। এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্যান্য রোগীদেরও বহু ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করানোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু, এতদিন হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন না থাকার ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে আবার হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সিটি স্ক্যান করাতে হতো। ঘাটাল মহকুমা স্বেচ্ছা রক্তদাতা সমিতির সম্পাদক অসীম দাস বলেন, ‘এর ফলে রোগীর যেমন সমস্যা হতো, বাড়ির লোকজনকেও হয়রানি পোহাতে হতো। তাই ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই মেশিন বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাঁদের পরিজনরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার সেটি শুরু হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের সুবিধা হবে।’ পঞ্চাননবাবু বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে অনেকদিন আগেই সিটি স্ক্যান পরিষেবার প্রয়োজন ছিল। ঠিকাদার সংস্থাগুলি সমস্যা তৈরি করায় সবকিছু ঠিক থেকেও এতদিন পর্যন্ত সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো সম্ভব হয়নি। তা না হলে আজ থেকে চার বছর আগে থেকেই আমাদের হাসপাতালে সিটি স্ক্যান শুরু হয়ে যেত।’