Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ শুরু হল পলাশপাই খালের সংস্কার

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ শুরু হল পলাশপাই খালের সংস্কার
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে শুরু হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের কাজ। মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ হিসেবে  এদিন থেকে দাসপুর-২ ব্লকের পলাশপাই খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘাটালে সংসদ সদস্য দীপক অধিকারীকে (দেব) সামনে  রেখে আরামবাগের একটি সভা থেকে রাজ্য সরকারের টাকাতেই দ্রুত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই কথাই বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। ফলে আশার আলো দেখছেন ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দারা। ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যানে পলাশপাই খাল সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল। সেই মতোই এদিন থেকে দাপপুর-২ ব্লকের পলাশপাই খালটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।’ খুশি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক এরজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই খালটির সংস্কার হলে কংসাবতীর জলের চাপ অনেকটাই কমবে। কংসাবতীর জল অতি সহজেই রূপনারায়ণ নদে পড়তে পারবে। তবে এই পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত জেলা লেভেল মনিটরিং কমিটিতে আমাদের সংগঠনের প্রতিনিধি সহ ওই কমিটিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলারও প্রতিনিধিকে রাখার দাবি জানাচ্ছি।’ প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৩টি ব্লকের ১৬৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে দুভোর্গে পড়তে হয়। ফসলের ক্ষতি হয়। গবাদিপশু মারা যায়। ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী করার বিষয়ে দেব সংসদে বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও গুরুত্ব দেয়নি। তিতিবিরক্ত হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির এক সভা থেকে দেবকে সামনে রেখে রাজ্যের উদ্যোগেই মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী করার কথা ঘোষণা করেন। পলাশপাই খাল সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী করা নিয়ে ঘাটাল মহকুমার মানুষের মনে বিন্দুমাত্র সংশয় রইল না। বর্তমানে রাজ্য সরকারের নিয়ম মতো কোনও খাল বা নদী সংস্কারের কাজ নিজেরা অর্থ খরচ করে করা হয় না। সংস্কারে আগে সেচদপ্তর স্কিম তৈরি করে। সেই স্কিমের ট্রেন্ডার ও বাকি প্রক্রিয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড দেখভাল করে। কোনও সংস্থা বা কোম্পানি সেই টেন্ডার ধরে সরকারকে রয়্যালটি দিয়ে খাল সংস্কার করে এবং তারাই ওই খাল বা নদীর সমস্ত মাটি তুলে নিজেরা ব্যবহার বা বিক্রি করে দেয়। পলাশপাই খালটি সংস্কারের টেন্ডার যে সংস্থা পেয়েছে তার কর্ণধার সৈয়দ সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ওই ১৯ কিলোমিটার খালটির মাটি নিলাম ধরতে ৭১ লক্ষ টাকা সরকারকে দিতে হয়েছে। খাল থেকে মোট চার কোটি ঘনফুট বালি বা মাটি তোলা হবে। সরকারকে প্রতি ঘন ফুটের জন্য এক টাকা করে মোট চার কোটি টাকা দিতে হবে।’ আগামী এক বছরের মধ্যে চার কোটি ঘন ফুট মাটি তুলে নেওয়ার কাজ শেষ করে দেবেন বলে সাব্বিরসাহেব জানান। ফলে খাল সংস্কার করে সরকারের মোট চার কোটি ৭১ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাবে। কিন্তু বছর পাঁচেক আগে ওই খালটি সংস্কার করতে সরকারের ৭২ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ