Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটাল বিদ্যাসাগর হাই স্কুলে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা, বাড়ছে ক্ষোভ

ঘাটাল বিদ্যাসাগর হাই স্কুলে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা, বাড়ছে ক্ষোভ
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: সিলেবাস শেষ না করেই নেওয়া হয়েছিল বার্ষিক পরীক্ষা। ফলে পাঠক্রমের বহু বিষয়ই পড়ুয়ারা শিখতে পারেনি। ঘাটাল মহকুমার নামী বিদ্যালয় ঘাটাল বিদ্যাসাগর হাইস্কুল এই ভাবে একটি শিক্ষাবর্ষ পার করিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার দাবি তুললেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মিটিং, অ্যাকাডেমিক প্রাইজ বিতরণ, বাৎসরিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো অনুষ্ঠানগুলি দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ। সেগুলিও যাতে নিয়মিত হয় তারও দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। বার্ষিক পরীক্ষার আগে ক্লাসগুলিতে পুরো সিলেবাস যে শেষ করা সম্ভব হয়নি তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক পঙ্কজকুমার ভুঁইয়া। তিনি বলেন, বন্যা এবং নির্বাচনের জন্য আমাদের স্কুল ভবনগুলি প্রশাসনকে ব্যবহার করতে দিতে হয়েছিল। সেজন্যই গত শিক্ষাবর্ষে অনেক ক্লাস করানো সম্ভব হয়নি। তাই নিরুপায় হয়েই কয়েকটি করে চ্যাপ্টার বাদ দিতে হয়েছে। এবার থেকে যেমন করে হোক সমস্ত সিলেবাস শেষ করেই বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’ বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা ঘাটাল পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অজিতরঞ্জন দে জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে না হওয়া অ্যাকাডেমিক প্রাইজ বিতরণ, বাৎসরিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবার থেকে নিয়মিত হবে।
Advertisement
ওই স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র পড়ে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রী উভয়েই পড়ে। পড়ুয়ার সংখ্যা দু’ হাজারের বেশি।  মূলত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদেরই পাঠক্রম শেষ না করিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক স্কুলেই শিক্ষাদপ্তর থেকে প্রত্যেক বিষয়ের জন্য বর্ষপঞ্জি করে দেওয়া হয়। সেই বর্ষপঞ্জিতেই উল্লেখ করা থাকে কোন চ্যাপ্টার কোন সময়ের মধ্যে শেষ করে তার পরীক্ষা নিতে হবে। অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই স্কুল শিক্ষাদপ্তরের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ক্লাস করায় না। প্রত্যেক বিষয়ের বেশ কিছু চ্যাপ্টার বাদ দিয়ে নিজদের মতো করে বর্ষপঞ্জি তৈরি করে নেয়। ফলে পড়ুয়ারা বহু চ্যাপ্ট্যার সম্বন্ধে অন্ধকারে থেকেই পরের ক্লাসে উঠে যায়।
নিয়ম মতো অভিভাবকদের মিটিং না করার ফলে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয় তৈরি হয় না। অভিভাবকরা তাঁদের  কথা স্কুলে জানানোর সুযোগ পান না। ঘাটাল ব্লকের রত্নেশ্বরবাটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমল দাস কর্মকারের ছেলে ওই স্কুলে পড়ে। অমলবাবু বলেন, ‘পড়ুয়ারা ক্লাসে ভালো ফল করলে স্কুল থেকে  অ্যাকাডেমিক পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করে। প্রত্যেক স্কুল করলেও মহকুমার মধ্যে অন্যতম ওই নামী স্কুলটি করোনার পর থেকে তা করেনি। বছরে একবার পড়ুয়াদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও কোনও বালাই নেই ওই স্কুলে।’ এক চিকিৎসক আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন, আমরা টিউশনি দিয়ে এবং বাড়িতে গাইড করে সন্তানদের ওই স্কুলে পাঠাই, তাই ভালো ফল করে। কিন্তু স্কুল থেকে যে বিষয়গুলো করলে পড়ুয়াদের উৎসাহ বাড়বে সেটা ওই স্কুল করে না।  তিনিও অমলবাবুর সুরে আক্ষেপের সঙ্গে জানান, ক্লাসে যারা প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয় তাদের হাতে বছরে একটা অনুষ্ঠান করে ৫০ টাকার একটা বই তুলে দিলেই তারা উৎসাহিত হয়। সেটা ওই স্কুল করেনি। যদিও অজিতবাবু আশ্বাস দিয়েছেন, এবার থেকে তাঁরা প্রোগ্রামই নিয়মিত করবেন। প্রতি দু’মাস ছাড়া অভিভাবকদের সঙ্গে মিটিং করবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ