নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা চোপড়া: সাইবার জালিয়াতদের চক্করে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে চোপড়ার চা বাগান ও ধানখেত ঘেরা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘিরনিগাঁওয়ের। ট্যাব কেলেঙ্কারিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে একাধিক জেলার পুলিস। তার মধ্যে ঘিরনিগাঁও এলাকারই ১০ জন।
Advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতা, মালদহ, কালিম্পংয়ের পর বুধবার চোপড়া ও ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালায় হাওড়া ও ঝাড়গ্রামের পুলিস। দুই জায়গা থেকেই বুধবার দু’জনকে ধরা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম পুলিস এদিন চোপড়ার দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে ওমর ফারুখকে (২৩)। দ্বিতীয়জন জুলফিকার আলি (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন ইসলামপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে। তাঁকে ধরেছে হাওড়া পুলিস। পরে রাতে ইসলামপুরের রামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মহম্মদ বাহাউদ্দিন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে বনগাঁ থানার পুলিস।
ইসলামপুর পুলিস সূত্রে খবর, তমলুকে ট্যাব কাণ্ডে ধৃত মনসুর আলমের সঙ্গে জুলফিকার আলির সম্পর্ক রয়েছে। জুলফিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অন্যের ব্যাঙ্কে টাকা ট্রান্সফারে অভিযুক্ত। একই অভিযোগ ফারুখের বিরুদ্ধেও। ইসলামপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, দু’জনকেই দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে সংশ্লিষ্ট দুই জেলার পুলিস নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে একের পর এক প্রতারণায় এলাকার ছেলেরা জড়িয়ে পড়ায় বিব্রত ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সুশীল সমাজ। তাঁদের বক্তব্য, কিছু লোকের জন্য এলাকার সুনাম নষ্ট হয়েছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে নিন্দার ভাষা নেই। একসময় ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় শুরু হয়েছিল সিমকার্ড, মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা হাতানোর চক্র। ডিজিটাল প্রতারণাকে তারা এখন কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। এই জায়গার নাম শুনলেই জনসাধারণের মনে ভেসে ওঠে প্রতারণার কথা। এমন একটা জায়গার সঙ্গে ঘিরনিগাঁওয়ের তুলনা শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিব্রত হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
জেলার ইসলামপুর মহকুমার চোপড়া ব্লকের চা ও আনারস চাষের জন্য যথেষ্ট খ্যাতি আছে। এই দু’ধরনের চাষ সহ সাধারণ কৃষিকাজে যুক্ত মানুষজনের সংখ্যাই বেশি। এই ব্লকের বাংলাদেশ সীমানা লাগোয়া গ্রাম ঘিরনিগাঁও। যেখানে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলিতে এখনও ফোনের টাওয়ার নেই। স্বাভাবিক উপায়ে ইন্টারনেটও কাজ করে না। এমন একটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গত কয়েক বছর প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। লাগাতার পুলিসি অভিযানের পর এলাকাবাসীর কাছেও বিষয়টা খুব বিব্রতকর। আবার স্থানীয় সূত্রে খবর, মূল চক্রীরা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট। তাই এলাকার অনেকে এ ব্যাপারে আগে আঁচ করতে পারলেও প্রকাশ্যে সেসব লোকজনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি। স্থানীয় গ্রামবাসী তথা পেশায় আইনজীবী ওবাইদুর রহমানের কথায়, কাজে বেরিয়ে চোপড়া এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিতে আমাদের এখন লজ্জা হয়। টিটকিরি শুনতে হয় ‘উত্তরের জামতাড়া’ এলাকার লোক বলে। এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরাও চাই অপরাধীরা শাস্তি পাক।
এপ্রসঙ্গে ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হকের মন্তব্য, ট্যাব কাণ্ডের মতো একটা ঘটনা এবারই প্রথম। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টা আমাদের কাছে খুব অস্বস্তির। মূল পান্ডারা গ্রেপ্তার হচ্ছে। তেমন কিছু দুঃস্থ মানুষও এতে জড়িয়ে গিয়েছেন।
একই সুর ঘিরনিগাঁওয়ের বাসিন্দা তথা আশারুবস্তি জালালউদ্দিন হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামেরও। তাঁর কথায়, সরকার জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকা দিচ্ছে। সেই টাকা ছল করে হাতিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। প্রতারকরা তাঁদের অপরাধের সাজা পাক।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দেক হোসেন ও আশিরুল হককে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘোরে চোপড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিস। এই দু’জন তমলুক থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত। এদিন পুলিস মণ্ডলবস্তি সহ বেশকিছু জায়গা ঘুরেছে বলে জানা গিয়েছে।
ইসলামপুর পুলিস সূত্রে খবর, তমলুকে ট্যাব কাণ্ডে ধৃত মনসুর আলমের সঙ্গে জুলফিকার আলির সম্পর্ক রয়েছে। জুলফিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অন্যের ব্যাঙ্কে টাকা ট্রান্সফারে অভিযুক্ত। একই অভিযোগ ফারুখের বিরুদ্ধেও। ইসলামপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেন, দু’জনকেই দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে সংশ্লিষ্ট দুই জেলার পুলিস নিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে একের পর এক প্রতারণায় এলাকার ছেলেরা জড়িয়ে পড়ায় বিব্রত ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সুশীল সমাজ। তাঁদের বক্তব্য, কিছু লোকের জন্য এলাকার সুনাম নষ্ট হয়েছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে নিন্দার ভাষা নেই। একসময় ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় শুরু হয়েছিল সিমকার্ড, মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা হাতানোর চক্র। ডিজিটাল প্রতারণাকে তারা এখন কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। এই জায়গার নাম শুনলেই জনসাধারণের মনে ভেসে ওঠে প্রতারণার কথা। এমন একটা জায়গার সঙ্গে ঘিরনিগাঁওয়ের তুলনা শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিব্রত হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
জেলার ইসলামপুর মহকুমার চোপড়া ব্লকের চা ও আনারস চাষের জন্য যথেষ্ট খ্যাতি আছে। এই দু’ধরনের চাষ সহ সাধারণ কৃষিকাজে যুক্ত মানুষজনের সংখ্যাই বেশি। এই ব্লকের বাংলাদেশ সীমানা লাগোয়া গ্রাম ঘিরনিগাঁও। যেখানে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলিতে এখনও ফোনের টাওয়ার নেই। স্বাভাবিক উপায়ে ইন্টারনেটও কাজ করে না। এমন একটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গত কয়েক বছর প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। লাগাতার পুলিসি অভিযানের পর এলাকাবাসীর কাছেও বিষয়টা খুব বিব্রতকর। আবার স্থানীয় সূত্রে খবর, মূল চক্রীরা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট। তাই এলাকার অনেকে এ ব্যাপারে আগে আঁচ করতে পারলেও প্রকাশ্যে সেসব লোকজনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি। স্থানীয় গ্রামবাসী তথা পেশায় আইনজীবী ওবাইদুর রহমানের কথায়, কাজে বেরিয়ে চোপড়া এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিতে আমাদের এখন লজ্জা হয়। টিটকিরি শুনতে হয় ‘উত্তরের জামতাড়া’ এলাকার লোক বলে। এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরাও চাই অপরাধীরা শাস্তি পাক।
এপ্রসঙ্গে ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তথা চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ফজলুল হকের মন্তব্য, ট্যাব কাণ্ডের মতো একটা ঘটনা এবারই প্রথম। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টা আমাদের কাছে খুব অস্বস্তির। মূল পান্ডারা গ্রেপ্তার হচ্ছে। তেমন কিছু দুঃস্থ মানুষও এতে জড়িয়ে গিয়েছেন।
একই সুর ঘিরনিগাঁওয়ের বাসিন্দা তথা আশারুবস্তি জালালউদ্দিন হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলামেরও। তাঁর কথায়, সরকার জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকা দিচ্ছে। সেই টাকা ছল করে হাতিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। প্রতারকরা তাঁদের অপরাধের সাজা পাক।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দেক হোসেন ও আশিরুল হককে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘোরে চোপড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিস। এই দু’জন তমলুক থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত। এদিন পুলিস মণ্ডলবস্তি সহ বেশকিছু জায়গা ঘুরেছে বলে জানা গিয়েছে।



