অগ্নিভ ভৌমিক, কালীগঞ্জ (চাঁদঘর): হেরোইনের নেশায় দিনভর বুঁদ থাকেন সাহিলের (নাম পরিবর্তিত) বাবা। কাজে যাওয়াও বন্ধ। বছর খানেক আগেওবাবাকে দেখত সকালে হন্তদন্ত হয়ে কাজে যেতে। দিনমজুরের কাজ। বাড়ি ফিরতেন সূর্য ডোবার পর। তারপর বাপ-ছেলের নানা গল্প, খুনসুঁটি।ভালো থাকার সেই ছবিএখন উধাও। বদলে গিয়েছে ছোট্ট সাহিলের জীবন। বাবা বে-রোজগার। পড়শি গ্রাম নলদহের হেরোইনের ঘুপচি ঠেকেই দিন কাটে বাবার। রাতেবাড়ি ফিরলেই মায়ের সঙ্গে ঝামেলা।সংসারের অভাব নিয়ে নিত্য ঝগড়া। বাধ্য হয়েই সংসারের জোয়াল কাঁধে চেপেছে সাহিলের।
Advertisement
বছর চোদ্দর কিশোর সাহিল। স্কুল ছেড়ে সে এখন দিনমজুর। দিনের শেষে তার রোজগারের টাকায় সংসার চলছে। বড়োচাঁদঘরেসাহিল উদাহরণ মাত্র। কালীগঞ্জ ব্লকের এই পঞ্চায়েতের ঘরে ঘরে এমন সাহিলের হদিশ মেলে। মাদক নেশার অভিঘাতে যাদের শৈশব সঙ্কটে।পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েসবাই কিছু না কিছু কাজের সঙ্গে যুক্ত। কেউ রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে। কেউ দোকানের কর্মী।কেউ আবার চাষের কাজে। সুশীল গ্রামবাসীরা আক্ষেপ করে বলছিলেন, হেরোইনের সর্বনাশা নেশার প্রভাবে সব শেষ হয়ে গেল!গ্রামে শিশুশ্রম বাড়ছে। স্কুলগুলির ক্লাসরুম, মাঠ খাঁ খাঁ করছে। শিশু-কিশোরদের ভিড় বাড়ছে কর্মক্ষেত্রে।
বড়োচাঁদঘর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছোটচাঁদঘর এলাকার পূর্বপাড়া গ্রাম। কথা হচ্ছিল গ্রামের এক বধূর সঙ্গে। আঠারো বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। এখন তিন সন্তানের মা। বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর দিন আনি দিন খাইয়ের সংসার দিব্যি চলছিল।তার পর সব শেষ! স্বামী ধীরে ধীরে হেরোইনের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লেন। ভালো করে পড়ানোর জন্য মেয়েকে ছোটো বয়সেই বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকি দুই ছেলেকে পড়াতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘মাত্র তেরো বছর বয়সেই দুই ছেলে কাজে লেগেছিল। বর্তমানে ছোটো ছেলের বয়স ১৫ বছর। আর বড় ছেলের বয়স ১৭। ছেলেরা এখন রাজমিস্ত্রির লেবারের কাজ করে। ওদের বাবার হেরোইনের নেশা আমার সংসারটা তছনছ করে দিল। কিছু বললেই মারধর করে। এখন ছেলেদের টাকাতেই সংসার চলে। আবার ওই টাকা ওকে দিতে হয় নেশার জন্য। না দিলে অশান্তি জুড়ে দেয়। আমিও সেলাইয়ের কাজ করি।’
হেরোইন তৈরির আঁতুড়ঘর নলদহ লাগোয়া পূর্ব পাড়াগ্রামে ঢুকলেই চোখ জুড়ানো বড় স্কুল। শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়মিত আসেন। কিন্তু সেভাবে পড়ুয়া নেই। গ্রামবাসীদের দাবি, বর্তমানে অনেকেই স্কুল ছেড়ে লেবারের কাজ করছে। বাড়ির রোজগেরে পুরুষরা নেশার সংক্রমণে আক্রান্ত। ছোটরাই সংসারের হাল ধরেছে। নেশার টাকার যোগাড় করতে গ্রামে চুরি ছিনতাই বাড়ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। গৃহিণীর অলক্ষ্যে ঘরের জিনিসও সাফ করে দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সংবিধানে শিশুশ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬ অনুয়ায়ী, শিশুদের কর্মসংস্থানে নিয়োগ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু, বড়চাঁদঘর গ্রামে এই আইনের ধার ধারছে না কেউই। পেটের তাগিদে কাজে যেতে হচ্ছে শিশু-কিশোরদের। একরকম বাধ্য হয়ে তাদের কাজে নিতে হচ্ছে দোকানদার কিংবা রাজমিস্ত্রিকে। এক রাজমিস্ত্রি বলছিলেন, ওদের মুখ দেখলে খুব কষ্ট হয়। কাজ না দিয়ে কোনও উপায় থাকে না। পুলিস-প্রশাসন কিছু একটা ব্যবস্থা করুক। তা না হলে হেরোইনের নেশা গোটা একটা প্রজন্মকে শেষ করে দেবে। একই আক্ষেপ রামিজ রাজারও। গ্রামের কৃতি সন্তান রামিজ। বছর খানেক আগে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দার্জিলিং জেলায় কর্মরত। তিনি বলছিলেন, ‘হেরোইনের নেশায় আমাদের গ্রামটি কার্যত উজাড় হয়ে যাচ্ছে।বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বড়োচাঁদঘর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছোটচাঁদঘর এলাকার পূর্বপাড়া গ্রাম। কথা হচ্ছিল গ্রামের এক বধূর সঙ্গে। আঠারো বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। এখন তিন সন্তানের মা। বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর দিন আনি দিন খাইয়ের সংসার দিব্যি চলছিল।তার পর সব শেষ! স্বামী ধীরে ধীরে হেরোইনের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লেন। ভালো করে পড়ানোর জন্য মেয়েকে ছোটো বয়সেই বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকি দুই ছেলেকে পড়াতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘মাত্র তেরো বছর বয়সেই দুই ছেলে কাজে লেগেছিল। বর্তমানে ছোটো ছেলের বয়স ১৫ বছর। আর বড় ছেলের বয়স ১৭। ছেলেরা এখন রাজমিস্ত্রির লেবারের কাজ করে। ওদের বাবার হেরোইনের নেশা আমার সংসারটা তছনছ করে দিল। কিছু বললেই মারধর করে। এখন ছেলেদের টাকাতেই সংসার চলে। আবার ওই টাকা ওকে দিতে হয় নেশার জন্য। না দিলে অশান্তি জুড়ে দেয়। আমিও সেলাইয়ের কাজ করি।’
হেরোইন তৈরির আঁতুড়ঘর নলদহ লাগোয়া পূর্ব পাড়াগ্রামে ঢুকলেই চোখ জুড়ানো বড় স্কুল। শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়মিত আসেন। কিন্তু সেভাবে পড়ুয়া নেই। গ্রামবাসীদের দাবি, বর্তমানে অনেকেই স্কুল ছেড়ে লেবারের কাজ করছে। বাড়ির রোজগেরে পুরুষরা নেশার সংক্রমণে আক্রান্ত। ছোটরাই সংসারের হাল ধরেছে। নেশার টাকার যোগাড় করতে গ্রামে চুরি ছিনতাই বাড়ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। গৃহিণীর অলক্ষ্যে ঘরের জিনিসও সাফ করে দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সংবিধানে শিশুশ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬ অনুয়ায়ী, শিশুদের কর্মসংস্থানে নিয়োগ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু, বড়চাঁদঘর গ্রামে এই আইনের ধার ধারছে না কেউই। পেটের তাগিদে কাজে যেতে হচ্ছে শিশু-কিশোরদের। একরকম বাধ্য হয়ে তাদের কাজে নিতে হচ্ছে দোকানদার কিংবা রাজমিস্ত্রিকে। এক রাজমিস্ত্রি বলছিলেন, ওদের মুখ দেখলে খুব কষ্ট হয়। কাজ না দিয়ে কোনও উপায় থাকে না। পুলিস-প্রশাসন কিছু একটা ব্যবস্থা করুক। তা না হলে হেরোইনের নেশা গোটা একটা প্রজন্মকে শেষ করে দেবে। একই আক্ষেপ রামিজ রাজারও। গ্রামের কৃতি সন্তান রামিজ। বছর খানেক আগে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দার্জিলিং জেলায় কর্মরত। তিনি বলছিলেন, ‘হেরোইনের নেশায় আমাদের গ্রামটি কার্যত উজাড় হয়ে যাচ্ছে।বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।



