নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: শহর শিলিগুড়িতে ফের ভূতুড়ে ভোটারের সন্ধান। এবার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের উধম সিং সরণি। ভোটার তালিকায় স্থানীয় মহিলার এপিকে রাজস্থানের এক ব্যক্তির নাম মিলেছে। যা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মানিক দে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই মহিলাকে চিনি। তবে ওঁর এপিক নম্বরে অন্য কারও ভোটার আইকার্ড রয়েছে তা জানতে পেরে আমিও স্তম্ভিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আলাদা করে অভিযোগ জানানোর জন্য ওই মহিলাকে অনুরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মানিকবাবু। এছাড়াও দলীয় নির্দেশ মতো বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
একইভাবে এদিন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভার লোয়ার বাগডোগরা এলাকার বেশ কিছু ভূতুড়ে ভোটারের তালিকা প্রকাশ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী (সমতল) পাপিয়া ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রতিটি জেলায় ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজ করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মতোই এদিন ফের ভুতুড়ে ভোটারের সন্ধান পান তাঁরা। লোয়ার বাগডোগরার এয়ারপোর্ট মোড়ের অমিতকুমার সিং নামের এক ব্যক্তির এই রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকলেও দিল্লির দ্বারকাতেও তাঁর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। এছাড়াও রীতা সিং নামের এক ভোটারের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও হরিয়ানা, দুই তালিকায় নাম রয়েছে। বীরেন্দ্রকুমার নামে বাগডোগরা রেল কলোনির বাসিন্দার এখানে ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশের হাপুরের ভোটার কার্ডও রয়েছে। এই বীরেন্দ্রকুমারের স্ত্রী মিনা চৌধুরী গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই এলাকার বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। এভাবেই বিজেপি দিল্লি জয় করেছে এবং গোটা দেশজুড়ে ভোটের লড়াই জিততে এই পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি জেলা সভানেত্রীর।
পাপিয়া বলেন, বর্তমানে লোয়ার বাগডোগরা এলাকায় প্রায় ১৫জন ভূতুড়ে ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। সমস্ত এলাকার ভোটার তালিকা যাচাই করে আরও বড় তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অপরদিকে, তৃণমূলের এই কর্মসূচি নিয়ে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য সজলকান্তি সরকার কটাক্ষ করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশিরা এসে শিলিগুড়িতে বসবাস করছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও জেলা সভানেত্রীর প্রথমে সেগুলি দেখার প্রয়োজন। একই মানুষের যদি দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে তাহলে প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
এদিকে, রবিবার থেকে নিজের শিলিগুড়ির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সমীক্ষা শুরু করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মানিক দে। প্রথমদিনে তিনি ওই ভুতুড়ে ভোটার ছাড়াও পাঁচজন মৃত ভোটারের নাম তালিকায় পেয়েছেন। মানিকবাবু জানান, সেই সকল বিষয়গুলোকেও নজর রাখা হচ্ছে। আমরা প্রথম দিনের স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে একটি ছোট্ট রাস্তার উপরে বসবাস করা ওই মহিলার এপিক নম্বরে গলদ চিহ্নিত করতে পেরেছি। ঠিকমতো খুঁজলে আশা করি আরও কিছু ভুলভ্রান্তি নজরে আসবে।