হাসনাবাদের ঘোষবাড়ি: পুজোয় মাইকের মুখ এখনও থাকে বাংলাদেশের দিকে
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজয় মণ্ডল  বসিরহাট:

Advertisement

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে হাসনাবাদ ব্লকের রামেশ্বরপুরে এককালের জমিদার ঘোষদের বাড়ির পুজো ৩০৩ বছরে পড়ল। এক সময়ে দুই বাংলাতে জমিদারি ছিল এই পরিবারের। তখন প্রথম পুজো চালু করেছিলেন গদাধর ঘোষ। আজও নিষ্ঠার সঙ্গে বাড়ির ঠাকুরদালানে সেই পুজো হয়ে আসছে। আগের মত জাঁকজমক আর নেই। কিন্তু প্রাচীন ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই ঘোষবাড়ির পুজোয়।
অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এই ঘোষবাড়ির পুজো দেখতে আসেন এবং পাত পেড়ে খাওয়া-দাওয়াও করেন। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। রথের দিন কাঠামো পুজো হয় ঘোষবাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা বিশেষ আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য রাখেন, কাঠামো পুজোর পর বৃষ্টি হচ্ছে কি না। বৃষ্টি হলে সেই জল ধরে রাখা হয় তামার পাত্রে। পুজোর সময়ে সেই জলই ব্যবহার করা হয়। কাঠামো পুজোর সময় থেকেই পুজোর একটা আমেজ ঘিরে রাখে গোটা বাড়িকে।
এই ঘোষবাড়ির প্রতিমা তৈরির একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। এখানের প্রতিমা তৈরি করেন মহিলা মৃৎশিল্পীরা। দীর্ঘদিন ধরেই এটা চলে আসছে। এবার যেমন প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী সাধনা দাস। সাধনাদেবী জানালেন, এখন আমি প্রতিমা তৈরি করছি। এর আগে এই বাড়ির প্রতিমা গড়তেন আমার শাশুড়ি মা। এভাবে বংশ পরম্পরায় আমরাই ঘোষবাড়ির প্রতিমা গড়ে চলেছি।
পুজোর সময় দেশ-বিদেশে থাকা ঘোষবাড়ির সদস্যরা সবাই বাড়িতে আসেন। ঘোষবাড়ির এক সদস্য তুহিন ঘোষ বলেন, একটা সময়ে বর্তমান বাংলাদেশ থেকে এই ঘোষবাড়িতে অনেকে পুজো দেখতে আসতেন। কিন্তু এখন সেটা বন্ধ। তবে এখনও আমাদের বাড়ির ছাদে উঠলে বাংলাদেশ দেখা যায়। আমাদের পুজো শুরু হলে বাংলাদেশের দিকে একটি মাইক ঘোরানো থাকে। এখনও পর্যন্ত এই ঘোষবাড়ির পুজোর মন্ত্রপাঠ শোনেন বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা আমাদের এক সময়ের প্রজারা।