নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের নিকাশি ব্যাবস্থা বেহাল। টানা বৃষ্টি হলেই শহরের একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলে ঘন্টাখানেকের বৃষ্টিতে শহরের একাধিক ওয়ার্ডে জল জমে যায়। নর্দমার দূষিত জল ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। পরিকল্পনাহীন ড্রেন তৈরির কাজ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ঝাড়গ্ৰাম পুরসভা বর্তমানে ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঝাড়গ্রাম পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসে ২০১৩ সালে। গত ১২ বছরে শহরের একাধিক ওয়ার্ডে পাকা ড্রেন তৈরি হয়েছে। তারপরেও বৃষ্টি হলে শহরের বেশ কিছু জায়গায় জল জমে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা নেই বলেই জল জমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। শহরের দক্ষিণ অংশ থেকে উত্তর দিক দিয়ে জল প্রবাহিত হয়। শহরের লোকাল বোর্ড, কালীপুর ও বাছুরডোবা এলাকা দিয়ে নিকাশির জল উত্তর দিকের নহড় খালে গিয়ে পড়ে। বড় নর্দমাগুলোর সঙ্গে ছোট নর্দমার যোগ না থাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নিকাশির জল নিকাশি নালার সঙ্গে সংযোগহীন জায়গাগুলো দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। নিচু এলাকায় বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে পড়ছে। এছাড়াও বাজার এলাকায় ড্রেনের স্লাবের ওপর গুমটি দোকান রয়েছে। ড্রেনের ভিতরে জমা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। বৃষ্টি হলে ড্রেনের জল রাস্তার ওপর দিয়ে বইতে থাকে। বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বাসিন্দাদের অনেকেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য, শহরের বিভিন্ন এলাকার উচ্চতার তারতম্য ৫০ থেকে ১০০ ফুট। শহরের মাঝ বরাবর উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের বিভাজিকা হিসেবে টাটা ও খড়গপুর শাখার রেল লাইন রয়েছে। শহরে কেন্দ্রীয়ভাবে ড্রেনেজ ব্যাবস্থা গড়ে তোলার সমস্যা থেকে গিয়েছে। ড্রেন তৈরি হলেও যে কারণে নিকাশি সমস্যা মিটছে না। পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু দাস বলেন, গতকালের বৃষ্টিতে ঘরে জল ঢুকে গিয়েছিল। এলাকায় ড্রেন তৈরির কাজ চলছে। ড্রেনগুলোর সঙ্গে যোগ না থাকায় নর্দমার জল উপচে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। অপর বাসিন্দা বীরেন্দ্র দাস বলেন, ঘরে ঢুকে যাওয়া জল বালতি করে বাইরে ফেলতে হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিস্কার থাকলে জল এলাকা থেকে সহজে বার হয়ে যেতো। শহরের দশ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্চিত দাস বলেন, এই এলাকায় বড় ড্রেন তৈরি হয়েছে। কিন্তু ছোট ড্রেনগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে নর্দমার জল বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ে। গত কাল হঠাৎ বৃষ্টিতে নর্দমার জল ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। দূষিত জলের দূর্গন্ধে সারারাত কাটাতে হয়েছে। পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত মাহাত বলেন, ওয়ার্ডের জল নিকাশি সমস্যা মেটাতে পাকা ড্রেন তৈরি হয়েছে। নর্দমাগুলোর সংযোগ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর কাজ হলে এলাকার নিকাশি সমস্যা অনেকটাই মিটবে। পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, জলনিকাশি সমস্যা সমাধানে একাধিক ওয়ার্ডে পাকা ড্রেন তৈরির কাজ হয়েছে। নিকাশি সমস্যা মেটাতে ধারাবাহিকভাবে কাজ হচ্ছে। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জল নিকাশির সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। ড্রেনগুলোতে যাতে আবর্জনা না ফেলা হয় সেই বিষয়ে শহরবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে।



