নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলাঘাট: জল জীবন মিশন প্রকল্পে পরিস্রুত পানীয় জল অবৈধভাবে রিজার্ভারে তুলে গোরুকে স্নান থেকে বাসন মাজা, কাপড় কাচা সবই চলছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দেদার পানীয় জলের অপব্যবহার রুখতে ২৪ঘণ্টায় এক হাজার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাল পিএইচই। এছাড়াও প্রায় ৮০০টি সংযোগ কাটা হয়েছে। শনিবার ছুটির দিনেও পুরোদমে পিএইচই দপ্তর খোলা ছিল। আজ রবিবারও ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের ছুটি বাতিল করে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। প্রায় পাঁচ হাজার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে। গোটা ঘটনায় জেলাজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে।
Advertisement
কোলাঘাট ব্লকে নদীবাহিত পানীয় জল প্রকল্পে ৭০হাজার বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রূপনারায়ণ নদ থেকে জল তুলে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে শোধনের পর বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারে দৈনিক মাথাপিছু ৫৫লিটার পানীয় জল বরাদ্দ। বাড়ির কাছে ট্যাপকল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সেই ট্যাপকলের মুখে পাইপ লাগিয়ে দেদার ওভারহেড এবং আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার ভর্তি করা হচ্ছে। তারপর পানীয় জল দিয়ে গোরুকে স্নান করানো থেকে বাসন মাজা, কাপড় কাচা চলছে। এরফলে দূরবর্তী এলাকায় ঠিকমতো জল সরবরাহ হচ্ছে না। এনিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিএইচই স্কিম নিয়ে দপ্তরের মন্ত্রী, প্রধান সচিব এবং উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে মিটিং করেন। মূলত জল জীবন মিশন প্রকল্পে কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে চলা ওই মিটিংয়ে রাজ্যে পানীয় জলের অবৈধ সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে। পানীয় জলের দেদার অপব্যবহার রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই স্পেশাল ড্রাইভ শুরু হয়েছে। কোলাঘাট ব্লকে কোলা-১, পুলসিটা, সাগরবাড় প্রভৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পিএইচই দপ্তর পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায়। ট্যাপকলের মুখ থেকে অবৈধ সংযোগ ছিন্ন করা হয়। করাত দিয়ে প্লাস্টিকের পাইপ কেটে ফেলা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে পানীয় জল অপব্যবহারের তালিকায় সরকারি কর্মী থেকে শিক্ষক এবং এলাকার নেতা কেউ বাদ যাননি। লাইন কাটার পর পিএইচই দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার থেকে কর্মীরা হুমকি ফোন পাচ্ছেন। কিন্তু, রাজ্য থেকে স্পেশাল অপারেশনের নির্দেশ রয়েছে। তাই হুমকিতে ভয় না পেয়ে সাহস নিয়ে পিএইচ দপ্তর একের পর এক গ্রামে অপারেশন চালাচ্ছে। রামনগর, কাঁথি, জুনপুট কোস্টাল, এগরা, নন্দীগ্রাম ও সুতাহাটা সহ সব থানায় পিএইচর পক্ষ থেকে এফআইআর হয়েছে। কোলাঘাট ব্লকে রূপনারায়ণ নদীবাহিত পানীয় জল প্রকল্পে মোট ৭০হাজার বাড়িতে সংযোগ রয়েছে। তারমধ্যে অন্তত আট-দশ হাজার বাড়িতে অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে অনুমান করছেন পিএইচইর তমলুক ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শক্তিপদ মণ্ডল। ওইসব বাড়িতে ট্যাপকলের মুখে পাইপ লাগিয়ে জল রিজার্ভারে তুলে নেওয়া হচ্ছে। মাথাপিছু ৫৫লিটারের জায়গায় অনেক বেশি জল তোলার ফলে দূরবর্তী এলাকায় ঠিকমতো জল যাচ্ছে না। এনিয়ে সমস্যা হচ্ছে। শনিবার কোলাঘাট ব্লকে পুলিসকে সামনে রেখে অভিযানে ১২৫টি বাড়িতে অবৈধ সংযোগ কেটে দিয়েছেন পিএইচইর কর্মীরা। শক্তিপদবাবু বলেন, একদিনে জেলায় এক হাজার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা পাঁচ হাজার অভিযোগ দায়ের করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছি। সেজন্য শনি ও রবিবারও অফিস খোলা রেখে এই অপারেশন চলছে।



