Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত জেলার জনজীবন যান চলাচল ও ফেরি পারাপারে ব্যাপক প্রভাব

ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত জেলার জনজীবন যান চলাচল ও ফেরি পারাপারে ব্যাপক প্রভাব
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কুয়াশার দাপটে মুর্শিদাবাদে বিপর্যস্ত জনজীবন। সোমবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার দাপটও বাড়তে থাকে। বেলা বারোটা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দৃশ্যমানতা কম থাকায় রাস্তায় সকালের দিকে যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি নদীপথে নৌকা চলাচলেও সমস্যা দেখা দেয়। সকালের দিকে বাজারঘাটে লোকজন ছিল বেশ কম। বহরমপুর, ডোমকল, কান্দি, লালবাগ ও জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকায় সর্বত্রই কুয়াশার দাপট লক্ষ্য করা গিয়েছে। কুয়াশার পাশাপাশি জেলাজুড়ে ভালো শীত অনুভূত হয়। গ্রামের দিকে বিদ্যালয়গুলিতে উপস্থিতির হার ছিল অনেকটাই কম। 
Advertisement
এদিন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ভোর থেকে তুলনামূলক কম গাড়ি যাতায়াত করেছে। যান চলাচলের প্রভাব পড়ে রাজ্য সড়কগুলিতেও। সেখানেও অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিন সকালবেলায় খুব অল্প গাড়ি যাতায়াত করেছে। বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বোঝাই ট্রাক কুয়াশার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। বেলা বাড়লে তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বহরমপুর জলঙ্গি রাজ্য সড়কে বেলা বাড়তেই গাড়ির ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফরাক্কা হলদিয়া বাদশাহী সড়কেও এদিন একটু বেলার পর থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। 
গাড়ি চালক আনসার হোসেন বলেন, ভোর রাত থেকেই খুব কুয়াশা ছিল। আমি তিনটের সময় গাড়ি নিয়ে আজিমগঞ্জ থেকে ফিরছিলাম। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। 
ট্রাকচালক রতন শেখ বলেন, সকালে এত কুয়াশা ছিল যে, লরি চালাতে পারছিলাম না। হেডলাইট ডিপার করে করে কিছুটা এগিয়ে এসে বহরমপুর পঞ্চাননতলার কাছে দাঁড়িয়ে গিয়েছি। ন’টা নাগাদও কুয়াশা কমেনি তবে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হতেই আমরা গাড়ি চালানো শুরু করি। 
লালবাগের এক নৌকার মাঝি বলেন, প্রতিদিন সকালে আমরা খেয়া পারাপার করাই। নদীতে কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। মাঝ নদীতে দুটো নৌকার ধাক্কা লাগলে বিপদ হতে পারে। এদিন এত বেশি কুয়াশা ছিল যে, একটি নৌকা ওপার থেকে এসে এপারে না পৌঁছনো পর্যন্ত আমরা নৌকা ছাড়ছিলাম না। 
দৌলতাবাদের সব্জি ব্যবসায়ী পিয়ারুল শেখ বলেন, সকালে গ্রামের হাট থেকে সব্জি নিয়ে আসতে পারছিলাম না। কুয়াশার জন্য সাইকেল চালাতেও সমস্যা হচ্ছিল। যে কয়েকটা গাড়ি চলছিল সবই লাইট জ্বালিয়ে যাচ্ছে। সকালের দিকে বাজারে লোকজন কম থাকায় আমাদের বিক্রি ভালো হয়নি। 
বহরমপুরের টোটো চালক বিজন মণ্ডল বলেন, এত কুয়াশা এর আগে দেখিনি। সকাল হয়েছে তো বুঝতেই পারিনি। বাড়ি থেকে টোটো নিয়ে বের হতে দেরি হয়েছে। তারপরেও রাস্তায় দেখছি লোকজন একেবারে নেই। 
ইসলামপুরের ফল ব্যবসায়ী লিয়াকত মোল্লা বলেন, সকাল দশটার পরেও আমাদের এলাকা পুরো কুয়াশায় ঢেকে ছিল। বাজারে লোকজন একেবারে আসেনি বলে বিক্রি খুব কম হয়েছে। 
কান্দির মাছ ব্যবসায়ী নিখিল হালদার বলেন, সকালে কুয়াশার জন্য আমাদের মাছ ধরার সমস্যা হয়েছে। এই শীতে জলে নেমে মাছ ধরার পরেও বাজারে ভালো বিক্রি হয়নি। কুয়াশা ও ঠান্ডায় এদিন বাজারে লোকজন কম এসেছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ