সংবাদদাতা, করিমপুর: শীতের ঘন কুয়াশা সীমান্তের পাচারকারীদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসে। তাছাড়া গায়ের চাদর বা জ্যাকেটের নীচে অনায়াসেই লুকিয়ে নেওয়া যায় গাঁজার প্যাকেট কিংবা নিষিদ্ধ সিরাপের বোতল। তাই শীতের আগে পাচার রুখতে বাড়তি সতর্ক পুলিস ও বিএসএফ।
Advertisement
প্রতি বছর শীতকালে সীমান্তে পাচার বাড়ে। সীমান্ত বসবাসকারী মানুষরা জানান, বছর ত্রিশ আগে যখন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, তখন ব্যাপক ভাবে ভারত থেকে পোশাক, খাবার সহ নানা জিনিস বাংলাদেশে পাচার হতো। সীমান্তে বেড়া দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের উপদ্রব কমেছে। তবে নিষিদ্ধ বস্তু পাচার পুরোপুরি রোখা যায়নি। জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও টাকার লোভে সীমান্ত এলাকার বহু যুবক ও কিশোর এই কাজ বেছে নিয়েছে। এমনকী শিশু ও মহিলাদেরও পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়। মুর্শিদাবাদ থেকে নদীয়ার হোগলবেড়িয়ার কাছারিপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেখানে বহু চাষি চরের মাঠে যান চাষ করতে। চাষের অজুহাতে অনেক সময়েই পাচারের জিনিস নিয়ে সীমান্তে চলে যায়। আবার যেখানে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে সেই এলাকায় বেড়ার উপর দিয়ে ওপারে প্যাকেট ছুঁড়ে ফেলা হয়। সীমান্তে পাহারারত জওয়ানদের সজাগ দৃষ্টি থাকলেও কখনও কখনও তাদের চোখ এড়তে সফল হয় পাচারকারীরা। গত ছ’ মাসে করিমপুর লাগোয়া সীমান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণ গাঁজা ও কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। বিএসএফ সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শীতকালে পাচারের চেষ্টা বাড়ে। পাশাপাশি বিএসএফের নজরদারিও বাড়ানো হয়। এই সময়ে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত অনেকদিন ঘন কুয়াশা থাকে যে কারণে কয়েক মিটার দূর অবধি দৃষ্টি চলে না। সেই সুযোগ নেয় পাচারকারীরা। কেউ কেউ ছোট ছোট প্যাকেট বা কয়েক বোতল সিরাপ পোশাকের মধ্যে করে পাচারের চেষ্টা করে। তেহট্টের এসডিপিও শুভতোষ সরকার বলেন, বহু ক্ষেত্রে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিস পাচারের আগেই মাল উদ্ধার করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসম কিংবা ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে পাচার হয়। এছাড়াও রয়েছে কাশির সিরাপ। পাচার আটকাতে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি চালাচ্ছে পুলিস। জগদ্ধাত্রী পুজো শেষ হলেই জোরকদমে পুলিসি অভিযান চলবে। সীমান্তে কর্মরত বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, শীতে কুয়াশার কারণে সমস্যা হলেও জওয়ানরা কঠোরভাবে সীমান্ত পাহারা দেয়। পাচার রুখতে দূরবিন এবং নাইট ভিশনের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। পাচার বন্ধে বাড়তি সতর্কতা নেয় বিএসএফের জওয়ানরা।



