Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘন কুয়াশায় ক্ষতির আশঙ্কা আলু ও বোরো ধান চাষিদের, মুর্শিদাবাদে দৃশ্যমানতা কমায় বাড়ছে দুর্ঘটনা

ঘন কুয়াশায় ক্ষতির আশঙ্কা আলু ও বোরো ধান চাষিদের, মুর্শিদাবাদে দৃশ্যমানতা কমায় বাড়ছে দুর্ঘটনা
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: ঘন কুয়াশা দাপট দেখাচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। যা আলু ও বোরো ধান চাষিদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জাতীয় ও রাজ্য সড়কে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী লরির দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। অধিকাংশ চালক সড়কের পাশে কোনও ধাবা বা হোটেলে রাতভর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছেন। কুয়াশা কমলে তবেই গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রাতে বিভিন্ন রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কে গাড়ির চাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে। গাড়ি চালকদের দাবি, ঘন কুয়াশায় ফগ লাইট জ্বেলেও দশ হাতের বেশি দূরের জিনিস নজরে আসছে না। দু’ পাশের ইন্ডিকেটর লাইট জ্বেলে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। চাষিদের দাবি, এমন কুয়াশা আর কয়েকদিন চললে আলুর ফলন ব্যাপক ধাক্কা খাবে। ধানের চারারও ক্ষতি হতে শুরু করেছে। তবে ঘন কুয়াশায় ফেরি ঘাটগুলিতে বিপজ্জনক পারাপার থেমে নেই।
Advertisement
শনিবার জেলায় তাপমাত্রার পারদ কিছুটা উপরেই ছিল। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসয়াস ছুঁয়েছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা উপরে এসে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, রবিবার সর্বোচ্চ তাপনাত্রা একই জায়গায় থাকলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শনিবার অপেক্ষা এক ডিগ্রি উপরে উঠেছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব নীচে না নামলেও শনিবার সন্ধ্যা থেকেই কুয়াশার দাপট বাড়তে শুরু করে। রাত যত বেড়েছে কুয়াশাও বেড়েছে। মধ্যরাতে দৃশ্যমানতা তলানিতে এসে ঠেকেছিল। রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা কুয়াশার চাদরে মোড়া ছিল। 
শিলিগুড়ি থেকে মাল বোঝাই করে কলকাতা যাচ্ছিলেন ডাকবাংলার লরি চালক সেলিম শেখ। তিনি বলেন, রাত ১১টায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর পলশন্ডায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ঘুমিয়েছি। রবিবার সকাল ৬টায় রওনা দিয়েছি। তখনও কুয়াশা কাটেনি।
কুয়াশার কারণে আলু চাষিরা ক্ষতির আতঙ্কে ভুগছেন। পাঁচথুপির আলু চাষি সাধন ঘোষ বলেন, এবার আলু গাছের বৃদ্ধি ভালো। রোগ পোকার আক্রমণও ছিল না। তবে দিন চারেক ধরে কুয়াশা চিন্তা বাড়িয়েছে। নাবিধসার আক্রমণ হতে পারে। রোগ প্রতিরোধে আলু চাষে খরচা বাড়বে। ধান চাষিরাও অশনি সংকেত দেখতে শুরু করেছেন। মুর্শিদাবাদে এবার বোরো চাষ পিছিয়ে রয়েছে। চারার বৃদ্ধিও হয়নি। পারশালিকার বোরো চাষি নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, ধানের চারার বৃদ্ধি থমকে গিয়েছে। পাতার রঙ হলুদ হতে শুরু করেছে। আপাতত ছাই ছিটিয়ে কুয়াশার মোকাবিলা করছি। কৃষিদপ্তরের পরামর্শ নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ করব।
সম্পর্কিত সংবাদ