Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘুমের ওষুধ স্প্রে, বেহুঁশ হতেই ৪ লক্ষ নগদ সহ গয়না নিয়ে চম্পট

ঘুমের ওষুধ স্প্রে, বেহুঁশ হতেই ৪ লক্ষ নগদ সহ গয়না নিয়ে চম্পট
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বাড়ির চারিদিকে সিসিক্যামেরা। লোহার গেট দিয়ে প্রধান দরজা আটকানো। তা সত্ত্বেও কে কোন ঘরে থাকেন, এই সমস্তটা আগে থেকে রেইকি করে বুঝে নিয়েছিল চোরের দল। বাড়ির লোক ঘুমিয়ে পড়তেই দরজা ভেঙে হানা। একটি সিসিক্যামেরায় কাপড় জড়িয়ে, অন্য ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে ঘরে ঢুকে প্রবেশ। এরপর বেহুঁশ করার স্প্রে ব্যবহার করতেই কেল্লাফতে। দেদার ঘুমে বাড়ির পুরুষরা। ময়দান ফাঁকা পেয়ে হাত সাফাই করে নগদ প্রায় চার লক্ষ টাকা সহ প্রচুর সোনার গয়না, পাঁচটি মোবাইল, সিসিক্যামেরার হার্ডডিস্ক সহ একাধিক জিনিস নিয়ে চম্পট দিল চোরের দল। 
Advertisement
তবে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বাড়ির গৃহকত্রীর জ্ঞান ফিরলেও আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব আমাইদিঘিতে। 
এলাকার বাসিন্দা তারিকুল ইসলামের বাড়িতে এমনই ঘটনা সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘুম পাড়ানি স্প্রের এমনই ধক ছিল যে, রবিবার দুপুর পর্যন্ত ঘোরে আচ্ছন্ন ছিলেন তারিকুলবাবু ও তাঁর ছেলে। ঘটনার খবর পেয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থানা পুলিস পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকার আর কোনও বাড়িতে সিসিক্যামেরা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে রাখা হচ্ছে। 
এদিন ভোর সাড়ে তিনটা নাগাদ চোরের দল বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই তারিকুল বাবুর ঘরে বেহুশ করার সামগ্রী স্প্রে করে। এরপর তার ছেলের ঘরে ঢুকেও একই কায়দায় স্প্রে ছড়িয়ে দেয়। তারিকুলবাবুর স্ত্রী অন্য ঘরে থাকায় সে ঘরে আর স্প্রে ছড়াতে পারেনি। এরপর তারিকুলবাবুর ঘরে এসে সেখান থেকে নগদ ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা আলমারি থেকে চুরি করে চোরের দল।   তারিকুলবাবুর ছেলের ঘর থেকে ৭৫ হাজার টাকা তুলে নেয়। আরএকটি ঘরে ঢুকে তারিকুলবাবুর স্ত্রী প্রচুর সোনার গয়না হাতিয়ে নেয় তারা। এরপর বিভিন্ন ঘরে ঢুকে তল্লাশি করে সিসিক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে না। বাড়িতে যে কটা মোবাইল পড়েছিল, তাও নিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। পাঁচটি মোবাইল ফোন বাড়ি থেকে উধাও। ভোর পাঁচটা নাগাদ নিজেদের অপারেশন শেষ করে চোরের দল পালিয়ে যাওয়ার সময় তারিকুল বাবুর স্ত্রী টের পান। তিনি চিৎকার করলেও তার স্বামী বা পুত্র কেউই কিছু টের পাননি। ঘর থেকে বের হতে গিয়ে তিনি দেখেন, বাইরে থেকে তা বন্ধ। কিছুক্ষণ লাগাতার চিৎকার করার পর প্রতিবেশীরা এসে দরজা খুলে দেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে অনুমান, কিছুদিন ধরে ওই বাড়ির উপর নজর রাগছিল দুষ্কৃতীরা। 
নিউ জলপাইগুড়ি থানার আধিকারিক জানান, চুরির ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা কোন পথে বেরিয়ে গিয়েছিল তা অনুমান করে তদন্ত হচ্ছে। 
তারিকুলবাবু বলেন, চিৎকার-চেঁচামেচি কানে এলেও ওঠার মতো ক্ষমতা আমার ছিল না। কিছু একটা নেশা জাতীয় দ্রব্য স্প্রে করেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। আমি চাই, পুলিস দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ