Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘুমন্ত স্বামীর গলার নলি কেটে সটান থানায় বধূ

ঘুমন্ত স্বামীর গলার নলি কেটে সটান থানায় বধূ
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: ধারাল হাঁসুয়া দিয়ে স্বামীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করল স্ত্রী। শুক্রবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে কাঁকসার রাজবাঁধের দক্ষিণ ক্যানালপাড় এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম চুনা কোড়া(৪৮)। বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছে কাঁকসা থানার পুলিস। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত গৃহবধূ অম্বু কোড়াকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ডেকরেটর সংস্থায় হেল্পারের কাজ করতেন চুনাবাবু। মদ খাওয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বহু দিন ধরেই অশান্তি চলছিল। প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পর স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। পরে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়েন চুনাবাবু। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত আড়াইটা নাগাদ হাঁসুয়া দিয়ে ঘুমন্ত চুনাবাবুকে খুন করে তাঁর স্ত্রী। হাঁসুয়া দিয়ে তাঁর গলার নলি কেটে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই পড়ে থাকেন চুনাবাবু। এরপর শনিবার সকালে থানায় গিয়ে চুনাবাবুর স্ত্রী বলে রাতে স্বামীকে হাঁসুয়া দিয়ে খুন করেছি। এই কথা শুনে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিস। পুলিস গিয়ে দেখে ঘরের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে চুনাবাবুর দেহ। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুনাবাবুর দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় মেয়ে আউশগ্রামে ও ছোট মেয়ে ওই এলাকাতেই থাকেন। ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বাড়িতে চুনাবাবু ও তাঁর স্ত্রী থাকতেন। চুনাবাবুর স্ত্রী শনিবার সকালে নিজেই ওই এলাকায় থাকা ছোট  মেয়েকে ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর দেয়। মেয়ে গীতা কোড়া বলেন, মা বলল বাবা মরে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়। বাবার টিবি রোগ ছিল। আমরা ভেবেছিলাম, টিবি রোগের জন্যই বাবা হঠাৎ মারা গিয়েছে। কিন্তু এসে দেখি, সাংঘাতিক দৃশ্য। বাবাকে যে মা এভাবে মারবে, তা ভাবতেও পারছি না।      
এদিন সকালে চুনাবাবুর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, স্বামীর মদ খাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। সেই ঝামেলা থেকেই খুনের ঘটনা কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস।
এসিপি(কাঁকসা) সুমনকুমার জয়সওয়াল বলেন, রাত আড়াইটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। মৃতের স্ত্রীই হাঁসুয়া দিয়ে গলার নলি কেটে দেয়। মৃতের স্ত্রী আমাদের কাছে সবটা স্বীকারও করেছে। গ্রামের লোকের কাছেও জানিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পারছি, পারিবারিক বিবাদের কারণেই এই ঘটনা। তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ