Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ঘুম ভাঙেনি রেলের, নিউদিল্লি স্টেশনে সেই অব্যবস্থাই

ঘুম ভাঙেনি রেলের, নিউদিল্লি স্টেশনে সেই অব্যবস্থাই
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিউদিল্লি স্টেশনে আজমেরি গেট সাইডের একটি অন্যতম ‘ল্যান্ডমার্ক’ ভোজনালয়। ঠিক তার সামনেই দাঁড়িয়ে আমন পুস্কর। হাতে ব্যাগ। কাঁধে ঝোলানো আর একটি। অন্য হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছেন নিজের অশীতিপর মা’কে। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। বললেন, মা জেদ ধরেছেন যে কুম্ভে যাবেনই। এবার নিয়ে না গেলে হয়তো মায়ের পক্ষে আর কোনওদিনই কুম্ভে যাওয়া হবে না। তাই বারণ করতে পারছি না। কিন্তু শনিবার রাতের ঘটনার পর খুব ভয় লাগছে। এই ডামাডোলে মা’কে হারিয়ে ফেলব না তো? বিকেলে ট্রেন। শক্ত হাতে মা’কে ধরে ধীরে ধীরে ভিড়ে মিশলেন আমন। 
Advertisement
স্টেশনের ১৬ নং প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতে গেলে সবসময় মূল প্রবেশপথ ধরে না এগলেও চলে। মূল প্রবেশপথের পাশ দিয়ে সামান্য বাঁয়ে ঘুরে এগলেই ১৬ নং প্ল্যাটফর্মের আরও একটি গেটের নাগাল পাওয়া যায়। তুলনায় সরু পথ। কিন্তু সাধারণত এই প্রবেশপথ তুলনায় ফাঁকা থাকে। যেসব রেল যাত্রী এই পথ চেনেন, তাঁরা অনেক সময়ই ভিড় এড়াতে এটি ব্যবহার করেন। এই পথের সঙ্গে সম্যক পরিচিত যোগেশ্বর গুপ্তাও। বহুবার অফিস ট্যুরে যাওয়ার সময় এই বিকল্প পথটি বেছেছেন। কিন্তু রবিবার আর ভরসা পেলেন না। কারণ ভিড়ের পরিমাণ দেখে আগেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছেন তিনি। সময় বেশি লাগলেও সড়কপথে কুম্ভে যাবেন কি না, এবার সেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন তিনি। বললেন, আগে প্রাণ বাঁচানো জরুরি। বেঁচে থাকলে পুণ্য অর্জনের সুযোগ আবারও আসবে। প্রশস্ত পথেই যা পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি, সরু গেটের ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। 
কিছু খণ্ডদৃশ্য। কিন্তু অন্যতম ‘হাই প্রোফাইল’ নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে কুম্ভের পুণ্যার্থীদের আতঙ্ক এবং আশঙ্কার দোলাচলের আবহ স্পষ্ট। ১৬ নং প্ল্যাটফর্মে এই সেই ফুট ওভারব্রিজ, যা দিয়ে উঠে বাঁদিকে চলে গেলেই একে একে ১৫ নং প্ল্যাটফর্ম, ১৪, ১৩, ১২ নং প্ল্যাটফর্মে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। পায়ে পায়ে অগুন্তি ভিড় মিশছে সেই সিঁড়ির ধাপে। এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চটি-জুতো। কিছুতেই ভাঙছে না ঘুম। শনিবার রাতের এতবড় ঘটনার পরেও নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে রেলের ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা দৃশ্যতই শিকেয় উঠেছে। 
শনিবার প্রায় মধ্যরাতে নিউদিল্লি স্টেশন চত্বরে দাঁড়িয়ে যে ভিড় চোখে পড়েছে। রবিবারও স্টেশনে গিয়ে সেই পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয়নি। বরং প্রতি মিনিটে কাতারে কাতারে লোক আসছে এই অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশনে। তাঁদের একটি বড় অংশের গন্তব্যই কুম্ভ-শহর, প্রয়াগরাজ। আরপিএফ কর্মীরা অবশ্য আছেন। যেমন শনিবার ছিলেন। নাম-কা-ওয়াস্তে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে চলছে প্রয়োজনীয় ঘোষণা। সংরক্ষিত টিকিটধারীরা রিজার্ভড কোচে উঠুন। জেনারেল টিকিট থাকলে অসংরক্ষিত কামরায় চাপুন। কিন্তু কেউ কি শুনছেন? ফুট ওভারব্রিজে দাঁড়িয়েই শিবগোপাল মিশ্রা বললেন, সংরক্ষিত কামরাতেও জেনারেল টিকিট কেটে উঠে যাচ্ছেন অনেক যাত্রী। প্রতিবাদ করলে উল্টে খারাপ ব্যবহার করছেন। রেল কর্মীদের দেখা পাচ্ছি না। নিত্যদিন রেল ঘোষণা করছে, শ’য়ে শ’য়ে মহাকুম্ভ-স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। পরিকাঠামো আছে কি? স্টেশনে দাঁড়িয়ে রেল যাত্রীদের একাংশ অভিযোগ করলেন, মাত্র মিনিট দশেক আগে স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা হচ্ছে। তার অব্যবহিত পরেই ট্রেন চলে আসছে। ফলে দৌড়ঝাঁপ করতেই হচ্ছে। বাড়ছে বিপদ। সেইসঙ্গে হানা দিচ্ছে আবারও অঘটনের আশঙ্কাও। প্রতি দু’মিনিটে শোনা যাচ্ছে রেলযাত্রীদের ভীত-সন্ত্রস্ত হাঁকডাক, মা রে! কোথায় গেলি? ঠিক আমার পিছনে পিছনে আয়। 
এদিকে,  আপাতত নিউদিল্লি স্টেশনের শুধুমাত্র ১৬ নং প্ল্যাটফর্ম থেকেই ছাড়বে প্রয়াগরাজগামী যাবতীয় স্পেশাল ট্রেন৷ বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্যই এহেন ব্যবস্থা। কুম্ভ স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের জন্য আলাদা হেল্পডেস্কও করা হতে পারে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ