Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শর্ত পূরণে ব্যর্থ, নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে জিএনএলএফ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা ঘিসিং পুত্রর

গত শতাব্দীর আশির দশকে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন থেকে শুরু করে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠন।

শর্ত পূরণে ব্যর্থ, নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে  জিএনএলএফ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা ঘিসিং পুত্রর
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত শতাব্দীর আশির দশকে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন থেকে শুরু করে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠন। সব কিছুর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে সুবাস ঘিসিংয়ের নাম। পাহাড়ের রাজনীতিতে বেশ কিছুটা সময় কার্যত নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ‘গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট’ বা জিএনএলএফ। এখন সেই জিএনএলএফের অস্তিত্বই সংকটের মুখে! 

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ‘অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল’ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল ঘিসিংয়ের দল জিএনএলএফ। কিন্তু ‘অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল’ হিসাবে টিকে থাকতে গেলেও কমিশনের যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তা না হওয়ায় এখন এই দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও রাজনৈতিক দলকে রেজিস্ট্রেশন বজায় রাখতে হলে প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি, প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের হিসেব সংক্রান্ত অডিট করাতে হবে। এছাড়া, দলীয় কার্যালয় ও সংগঠন কাঠামো ঠিক রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাংগঠনিক শর্ত কিছুটা পূরণ করতে পারলেও গত তিন দশকেরও বেশি সময় ঘিসিংয়ের দল বাকি দু’টি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় পদক্ষেপ গ্রহণের আগে বক্তব্য শুনতে দলের প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল কমিশনের অফিসে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর বা সিইও অফিসে শুনানিতে উপস্থিত হন দলের সভাপতি তথা সুবাস ঘিসিংয়ের ছেলে মোহন ঘিসিং। 
সূত্রের খবর, কমিশনের প্রশ্নের উত্তরে মোহন জানিয়েছেন, এনডিএ’র শরিক দল হওয়ায় জিএনএলএফ গত পাঁচ বছরে আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে তারা আয়-ব্যয়ের বার্ষিক অডিট করাননি। এই পরিস্থিতিতে এখন জিএনএলএফের বক্তব্য সংবলিত রিপোর্ট দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে পাঠাবে সিইও অফিস। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা  না করার জন্য এনডিএ’র শরিক হওয়ার যুক্তি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, সে ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। 
এদিন মোট ১২টি ‘অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল’কে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। জিএনএলএফ ছাড়াও উপস্থিত ছিল দুটি উপদলে বিভক্ত কামতাপুরী প্রগতিশীল দল এবং আরও দু’টি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। কোনও দলই কমিশনের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। বাকি আটটি দল ছিল অনুপস্থিত।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ