Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘুগনি বিক্রির টাকায় সাইকেলে দেশ ঘুরে বিশ্বশান্তির বার্তা দেন শ্যামাপদ

ঘুগনি বিক্রির টাকায় সাইকেলে দেশ ঘুরে বিশ্বশান্তির বার্তা দেন শ্যামাপদ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: ছ’ মাস ফুটপাতে ঘুগনি বিক্রি, আর বাকি ছ’ মাস সেই টাকায় সাইকেলে চেপে ভারত ভ্রমণ। তবে নেহাত শখে নয়, বিশ্বশান্তির বার্তা দিতেই সেই ভ্রমণ। দুর্গাপুরের এ জোনে সেকেন্ডারি মোড়ে গেলে দেখা যাবে শ্যামাপদ শর্মার গরম ঘুগনির দোকান। সঙ্গে ডিম সেদ্ধ। একটা সাইকেলে বড় ছাতা টাঙিয়ে দোকান খুলে বসেন শ্যামাপদ। গরম ঘুগনি কিংবা ডিমসেদ্ধর স্বাদ নিতে নিতে শোনা যায় সাইকেলে লেহ-লাদাখ, কিংবা কন্যাকুমারী যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা। শ্যামাপদ একটা সময়ে পোলিওমুক্ত ভারত গড়ার বার্তা নিয়ে এই সাইকেল ভ্রমণ শুরু করেছিলেন। তাঁর কথায়, মানুষের মস্তিস্কগুলোই যেন পোলিও আক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। সর্বত্র যুদ্ধের দামামা, বিশ্বে শান্তির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ছোটবেলায় ভিক্ষে করেও পেট ভরাতে হয়েছে তাঁকে। সেসব দিন তাঁকে শিখিয়েছে মানুষের জীবনে শান্তির প্রয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শ্যামাপদ শর্মার আদি বাড়ি বাঁকুড়া জেলার সোনামুখি থানা এলাকায়। তাঁর যখন খুব অল্প বয়স, তখনই তাঁর বাবা মারা যান। নাবালক অবস্থায় ভিক্ষে করে পেট ভরাতেন। তারপর অনেকের সাহায্যে গ্রামে একটি গুমটি দোকান করেন। তখন সদ্য বিয়ে হয়েছে শ্যামাপদর। গ্রামে শুরু হয় রাজনৈতিক হানাহানি। সেই গোলমালে তাঁর গুমটি দোকান ভাঙা পড়ে। দারিদ্রের জ্বালায় একটা সময়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর সহযোগিতায় সেই খারাপ সময় কাটিয়ে তিনি হাজির হন দুর্গাপুর। সেখানেই প্রথমে ঠেলাগাড়িতে করে ঘুগনি বিক্রি শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ি দুর্গাপুরেই। চোখের সামনে পোলিও আক্রান্ত শ্যালককে কষ্ট পেতে দেখতেন। এই অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনি পোলিওমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেন। সাইকেল নিয়ে দিল্লি পাড়ি দেন। রাস্তায় যতজনকে পেয়েছেন সকলকে পোলিও রোগ নিয়ে সচেতন করতে করতে দিল্লি পৌঁছন। পরের বার একই বার্তা নিয়ে দুর্গাপুর থেকে মুম্বই যান। পরে থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে সাইকেল নিয়ে অসম যান। ২০২২ সালে তিনি গিয়েছিলেন লেহ-লাদাখ। সেবার থেকেই বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় তাঁর। ২০২৩ সালে সাইকেল নিয়ে গিয়েছিলেন কন্যাকুমারি। এবার তাঁর লক্ষ্য গোয়া। 
Advertisement
তিনি বলেন, স্ত্রী অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করে। ওর টাকায় কোনও রকমে সংসার চলে যায়। আমি যা রোজগার করি তাঁর ২৫ শতাংশ টাকা সংসার খরচে দিয়ে বাকি টাকা সাইকেল ভ্রমণের জন্য রাখি। সাইকেল নিয়ে দূর দূরান্ত যাই বলে চার মাস থেকে ছ’মাস সময় লাগে। সাইকেল নিয়ে গেলে বহু মানুষকে নিজের মনের কথা বলার সুযোগ পাই। জীবন শেষ বছর পর্যন্ত এই কাজ করতে চাই। নিজের স্বপ্নের গুমটি ভাঙার দুঃখ আজও অনুভব করি। আমার তো নেহাত একটা দোকানঘর গিয়েছিল। যুদ্ধের জেরে কত মানুষের ভিটেমাটি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। 
দোকানে বসে ঘুগনি খাচ্ছিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শ্যামপদ কথা বলতে খুব ভালোবাসে। ঘুগনি খেতে খেতে আমরা প্রতিদিনই ওর ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা শুনি। ওঁর মতো নিজের কষ্ট করে রোজগারের টাকা মানুষের ভালোয় খরচ করার কথা ক’জন ভাবে।  
সম্পর্কিত সংবাদ