সংবাদদাতা, বহরমপুর: গৃহবধূকে কীটনাশক খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতালে বধূর মৃতদেহ ফেলে রেখে পালায় অভিযুক্তরা। রবিবার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। মৃতের নাম শেফালি খাতুন (২৬)। বাড়ি সালার থানার উত্তর ধনডাঙা। সালার থানার পুলিস জানিয়েছে, পরিবারের তিনজনের নামে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক।
Advertisement
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ছয়েক আগে শক্তিপুর থানার বিধুপাড়ার বাসিন্দা শেফালি খাতুনের বিয়ে হয়েছিল সালার থানার দক্ষিণ ধনডাঙার জাহেরুল শেখের সঙ্গে। দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, বিয়েতে নগদ, সোনা ও মোটরবাইক যৌতুক দেওয়ার পরও অতিরিক্ত পণের জন্য লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পেশায় মুদির দোকানি জাহেরুল স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালাত বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার সকালে শেফালি বিবির দিদার মৃত্যু হয়। মৃতদেহ দেখতে বাপের বাড়ি যেতে চাওয়ায় স্বামী বাধা দেয়। এমনকী মারধর করে বলেও অভিযোগ। মৃতের পরিবারের দাবি, স্বামীর বাধা না মানায় শেফালি খাতুনকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহেরুল গ্রামের কয়েকজনের সহায়তায় শেফালিকে নিয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতের ভাই রাহুল শেখ বলেন, সকালে ঘটনা ঘটলেও আমাদের বিকেল পাঁচটা নাগাদ খবর দেওয়া হয়। আমরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে দেখি ওদের পরিবারের কেউ নেই। ততক্ষণে শেফালির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করেছে। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ হাসপাতালেই শেফালি খাতুনের মৃত্যু হয়। মৃতের জেঠু বলেন, অতিরিক্ত পণের দাবিতে প্রায় রোজ শারীরিক নির্যাতন করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন।



