Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁটাতারের ওপারে চরমেঘনায় প্রথম প্রার্থী হিসাবে প্রচার ঘাসফুলের সোহমের

ভোট ঘোষণার প্রায় চল্লিশ দিন পেরিয়ে গেলেও এতদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর দেখা মেলেনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম চরমেঘনায়।

কাঁটাতারের ওপারে চরমেঘনায় প্রথম  প্রার্থী হিসাবে প্রচার ঘাসফুলের সোহমের
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: ভোট ঘোষণার প্রায় চল্লিশ দিন পেরিয়ে গেলেও এতদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর দেখা মেলেনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম চরমেঘনায়। অবশেষে শুক্রবার ওই গ্রামে গিয়ে প্রচার করলেন করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। এবারের নির্বাচনে তিনিই প্রথম প্রার্থী যিনি সীমান্ত ঘেঁষা এই গ্রামে পা রাখলেন। এদিন অভিনেতাকে সামনে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই এলাকার মানুষরা তাঁদের একাধিক সমস্যার কথা সরাসরি প্রার্থীর সামনে তুলে ধরেন। সোহম চক্রবর্তী মনোযোগ দিয়ে সেইসব সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,  আদিবাসী অধ্যুষিত এই চরমেঘনা গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষের বাস, যার মধ্যে ভোটার ৬১৩ জন। বেশিরভাগ মানুষই কৃষিজীবী। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গ্রামের স্বার্থে তাদের সকলে একজোট হয়ে থাকেন। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপি সব দলের সমর্থকই এই গ্রামে থাকেন, তবে স্থানীয় সমস্যার ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হন গ্রামবাসীরা। এমনকী গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন হিংসা ও অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছিল, তখন চরমেঘনায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা একসঙ্গে বসে গল্প, খাওয়া-দাওয়া করেছেন। যা রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সমস্যা রয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, চরমেঘনায় প্রায় দেড়শো পরিবার তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের হলেও তাদের অধিকাংশের কাছেই এখনও শংসাপত্র নেই। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা চাকরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব স্পষ্ট এই সীমান্তবর্তী গ্রামে। গ্রামের একমাত্র রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পড়ে রয়েছে। যার ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। পানীয় জলের সমস্যাও এখানে প্রকট। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন খুব একটা দেখা যায় না। তৃণমূলের করিমপুর ১ ব্লক যুব সভাপতি সৌমিক সরকার জানান, বিধানসভা এলাকার ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচারের কাজ চলছে। আমাদের প্রার্থী হোগলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রচারে গেলেও কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে আজ গিয়েছিলেন। গ্রামের মানুষের সমস্যার কথা তাকে জানিয়েছেন। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পলাশ অধিকারী বলেন, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আমাদের সমর্থক এবং গ্রামের বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যও বিজেপি দলের। ফলে ভোট প্রচার বলে নয়, ওই গ্রামে আমাদের প্রার্থী মাঝে মাঝেই যান। আজই তিনি ভোট প্রচারে যাবেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ