Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সান্তাক্লজ-স্লেজগাড়ি-রংবেরঙের লাঠিতে বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি, ক্রিসমাস ট্রি কেনার ভিড়ে জমজমাট গালিবের রাস্তা

নিউ মার্কেটের পিছনে মির্জা গালিব স্ট্রিট। এক সময় এই চত্বরে বাংলাদেশি লোকজনের আনাগোনা লেগে থাকত। সারি দিয়ে হোটেল, সেখানেই থাকতেন তাঁরা।

সান্তাক্লজ-স্লেজগাড়ি-রংবেরঙের লাঠিতে বড়দিন উদযাপনের প্রস্তুতি, ক্রিসমাস ট্রি কেনার ভিড়ে জমজমাট গালিবের রাস্তা
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউ মার্কেটের পিছনে মির্জা গালিব স্ট্রিট। এক সময় এই চত্বরে বাংলাদেশি লোকজনের আনাগোনা লেগে থাকত। সারি দিয়ে হোটেল, সেখানেই থাকতেন তাঁরা। শহর ঘুরতেন, চিকিত্সার জন্য আসতেন। সেসব দিন এখন পালটেছে। তবে বদলায়নি গালিব স্ট্রিটের ফুটপাত। ডিসেম্বর মাসজুড়ে এই রাস্তাটি বিদেশের কোনও ঝাঁ চকচকে বাজারের মতো হয়ে যায়। ফুটপাতের দু’পাশে দাঁড় করানো সারি সারি ক্রিসমাস ট্রি। সেই গাছে ঝকমকে আলো। ক্রেতাদের উৎসাহ ও কেনাকাটা দেখে মনে হচ্ছে, বড়দিনের উত্সব চলেই এসেছে।

Advertisement

শহর কলকাতা এমনই। যেখানে আকবর, শাহিদরা মির্জা গালিবের রাস্তায় বড়দিনের সাজ-সরঞ্জাম বিক্রি করেন। আর সেই সব সরঞ্জাম কিনে নিয়ে যান সব ধর্মের মানুষ। ফুটপাতের দু’পাশে যেমন ক্রিসমাস ট্রিয়ের সারি, তেমনই আকাশ দেখা যায় না ফুটপাত থেকে। সেখানে ঝুলছে নানা রকমের আলো। রংবেরঙের লাঠি। তবে শুধুই ক্রিসমাস ট্রি নয়, রাস্তার দু’পাশে থাক থাক করে রাখা ছোটো-বড়ো নানা মাপের সান্তাক্লজ, রেইন ডিয়ার, গিফট বক্স। সেগুলিতে আবার আলোও জ্বলে। তাই ঘর সাজানোর সরঞ্জাম হিসেবে এগুলি খুদেদের প্রথম পছন্দ। বিক্রেতা মহম্মদ আকবর বলছিলেন, ‘আমরা সারা বছর গিফট আইটেমের ব্যবসা করি। এই সময় আমরা বড়দিনের জিনিসপত্র নিয়ে বসি। বাজার এখনও পর্যন্ত মোটামুটি আছে। আশা করছি, দিন দু’য়েকের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যাবে। ক্রিসমাস ট্রি এখানে আড়াইশো টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ দাম ৮-১০ হাজারে পৌঁছে যায়।’ বড়দিনের সময় বাড়ি সাজানোর ধুম পড়ে। সেক্ষেত্রে যে শুধুই ক্রিস্টানরা বাড়ি সাজান, এমনটা নয়। আরেক বিক্রেতা শাহিদ বলছিলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ইশাহি সকলেই এই সময় ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যান। এখানে কোনও ধর্মের বিষয় নেই। উত্সব সকলেই উদযাপন করেন।’ আবার বাচ্চাদের পছন্দ রংবেরঙের আলো। এখানে আলোর দাম শুরু ৩৫০ টাকা থেকে। আকবর বলছিলেন, ‘বাঙালিরা এখান থেকে অনেক জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যান। বাচ্চারা তাদের স্কুল প্রজেক্টের জন্য কিনে নিয়ে যায়। অনেকের বাড়িতে পার্টি হয়। সেই কারণেও কিনে নিয়ে যান কেউ কেউ। এখানে ধর্মের কোনও বিষয় নেই।’ আবার নিউ মার্কেট চত্বরেও এই সময় অস্থায়ী দোকান বসে। যেখানে বড়দিনের সামগ্রীই বিক্রি হয়।
সব মিলিয়ে আকবর-শাহিদদের দোকান এখন জমজমাট। সকলে মিলে ভিড় জমাচ্ছেন বড়দিন উদযাপনে ভেসে যেতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ