নয়াদিল্লি: সংক্ষিপ্ত বিশেষ সংশোধন বা এসএসআর। ১৮ বছরে পা দেওয়া তরুণ-তরুণীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ দিতে প্রতি বছর এই কর্মসূচি গ্রহণ করাই দস্তুর নির্বাচন কমিশনের। ১৯৫৮ সাল থেকে চলে আসছে এই প্রথা। অথচ, ২০২৪ সালের পর থেকে ‘জেন জি’-দের ভোটাধিকার প্রদানের এই প্রক্রিয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও দুই কমিশনারের সহমতের অভাবে ওই প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। একদিন আগেই ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদন ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই রিপোর্টে এসআইআর সহ বিভিন্ন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির দফায় দফায় মতবিরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনার ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাতে আমল দেননি জ্ঞানেশ। এরই মধ্যে নতুন ওই রিপোর্টে দাবি, নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও যোশি এসএসআর ফের চালু করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেও তাতে ফল মেলেনি। এমনকী ২০২৫-২৬ সালের এসএসআর প্রক্রিয়াও এখনও পর্যন্ত চালু হয়নি।
স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্যুতে এদিন সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের তোপ, মোদি সরকার জেন জি-কে ভয় পায়। কারণ, জেন জি মোদির বিরোধিতা করে। এই ভয়েই মোদি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছেন। এখন জ্ঞানেশ কুমার জেন জি-এর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। কমিশন প্রতি বছর নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত করার জন্য এসএসআর পরিচালনা করে। তবে, জ্ঞানেশ কুমার ২০২৪ সাল থেকে তা নিষিদ্ধ করেছেন। এর অর্থ, ভোটার তালিকায় ১৮ বছর বয়সিদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া থেমে গিয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনার এসএসআর-কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানালেও, জ্ঞানেশ কুমার তা হতে দিচ্ছেন না। ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে বিহার থেকে দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। এই আবহে ২০২৪ সালের পর থেকে স্থগিত করে রাখা হয়েছে এসএসআর প্রক্রিয়া। এই ইস্যুতে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জেরে চলতি বছরের গোড়ায় আইনি পরামর্শও চেয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। এসআইআর প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই এসএসআর কর্মসূচি শুরু করা প্রয়োজন কিনা, সেবিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই আইনি পরামর্শ আসার পর দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও যোশি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এসএসআর চালু হওয়া প্রয়োজন। কারণ, কমিশনের ম্যানুয়ালেই প্রতি বছর নিয়ম করে এসএসআর সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসএসআর কর্মসূচিটি ছবি সহ ভোটার তালিকা আপডেট করতে এবং অমিল ও অসঙ্গতি যাচাই করতেও সহায়ক হয়।এসএসআরের মাধ্যমে সেই বছর ১৮ বছর পূর্ণ হতে চলা নাগরিকরা চারটি তারিখে (১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই এবং ১ অক্টোবর) আবেদন করতে পারেন।