সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গেদে চেকপোস্টে ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা। এমনকী রুটিরুজির সমস্যায় পড়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের ভেতর অশান্তির কারণে দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে সীমান্ত লাগোয়া চেকপোস্ট গেদেতে। সেক্ষেত্রে এপার ওপারে যাতায়াত ‘নেই’ বললেই চলে। ঠিক এই অবস্থায় সীমান্ত গেদে চেকপোস্ট এলাকায় রুটিরুজির সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গেদেতে রয়েছে ইমিগ্রেশন দপ্তর। স্বাভাবিক ভাবেই এখানে আছে সাতটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র। তাদের পার্টনার ও কর্মচারী মিলিয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত সংখ্যাটা একশোরও বেশি। আছে চায়ের, ফলের, মুদিখানা, স্টেশনারি, হোটেল, খাবারের ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় গোটা পঞ্চাশেক দোকান। এছাড়া সীমান্তে যাওয়ার জন্য ভ্যান চালক, গেদে স্টেশনে টোটো চালক ও কুলি নিয়েও আছে চল্লিশজন। সারা বছর গেদে স্টেশন ও ইমিগ্রেশন দপ্তরে ভিড় থাকে। এখানেই পাসপোর্ট ও ভিসা দেখানোর কাজ হয়। তাই গোটা এলাকার ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে উঠেছে এই চেকপোস্টের ওপর। এই অবস্থায় দেড়শো পরিবারের জীবন যাপনে নেমেছে ঘোরতর সমস্যা। প্রসঙ্গত গেদেতে দীর্ঘদিনের এই চেকপোস্ট ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে বন্ধ ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফের গেদে-দর্শনা চেকপোস্ট চালু হয়। দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে এই চেকপোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। লকডাউনের সময় চেকপোস্ট বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধে চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় গোটা এলাকার আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় নতুন করে ভিসা পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। তাই খুব অল্প সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন। এই মুহূর্তে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন যাতায়াত করছেন, যা আগের থেকে অনেক কম। জানা গেছে, স্বাভাবিক অবস্থায় গেদে চেকপোস্টে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। গোটা এলাকা তখন সরগরম থাকে।
Advertisement
গেদেতে ডলার ভাঙানোর ব্যবসা করা গৌতম নাথ বলেন, বাংলাদেশে একটা আন্দোলন সংঘটিত হওয়া ও তার পরবর্তী পরিস্থিতির জের চলছে। নতুন করে ভিসা পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অল্প সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন। ঝিনাইদহ থেকে ভারতে আসা এক বাংলাদেশি বলেন, ওপার থেকে আসার জন্য নতুন করে ভিসা পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। তাই অল্প সংখ্যক মানুষ খুব প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে এপারে আসতে পারছেন। গেদে ইন্টারন্যাশনাল ওয়েলফেয়ার সোস্যাইটির সেক্রেটারি চিত্তরঞ্জন নাথ বলেন, এখন যা অবস্থা, তাতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০-র মতো লোকজন যাতায়াত করছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকায় ব্যবসার অবস্থা খারাপ।
গেদে স্টেশনের কাছেই মুদি ব্যবসায়ী বাবলু বিশ্বাসের দোকান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। এই গোটা এলাকার ব্যবসাটা নির্ভর করে এপার ওপরের মানুষের যাতায়াতের উপর। এখন মানুষই আসছেন না। তাই ব্যবসাটা হবে কী করে? আগের অবস্থা কবে ফিরবে আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেডিকেল ছাড়া ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ওই এলাকায় ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হচ্ছে।
গেদে স্টেশনের কাছেই মুদি ব্যবসায়ী বাবলু বিশ্বাসের দোকান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। এই গোটা এলাকার ব্যবসাটা নির্ভর করে এপার ওপরের মানুষের যাতায়াতের উপর। এখন মানুষই আসছেন না। তাই ব্যবসাটা হবে কী করে? আগের অবস্থা কবে ফিরবে আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেডিকেল ছাড়া ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ওই এলাকায় ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হচ্ছে।



