Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুছিতে থাকবে ৭০টি পান, ব্যবসায়ী ও চাষিদের নিয়ে বৈঠক করলেন মন্ত্রী

গুছিতে থাকবে ৭০টি পান, ব্যবসায়ী ও চাষিদের নিয়ে বৈঠক করলেন মন্ত্রী
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রতি গুছিতে ক’টা পান থাকবে, তা নিয়ে পানচাষি বনাম ব্যবসায়ীর সংঘাত দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে। ৫০টি পান নিয়ে এক গুছি হলেও চাষিদের সেই গুছিতে ২০০ থেকে ২৫০ পর্যন্ত পান দিতে হতো। অথচ, দাম পেতেন ৫০টি পানের। বেচারাম মান্না রাজ্যের কৃষি-বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী হওয়ার পর পানচাষিদের এই সমস্যা সমাধানে তৎপর হন। চাষিদের স্বার্থ বজায় রেখে ব্যবসায়ীরাও যাতে লোকসানের মুখে না পড়েন, সেই জন্য মধ্যপন্থা হিসেবে ৫০টির জায়গায় প্রতি গুছিতে ৭০টি পান রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪পরগনায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা সমাধানে দুই জেলায় উচ্চ পর্যায়ের মিটিং সারলেন মন্ত্রী। শুক্রবার তমলুকে জেলাশাসক অফিসে এনিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে পানচাষি এবং ব্যবসায়ী সমিতির সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়াও মন্ত্রী বেচারাম মান্না সহ দপ্তরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনা, যুগ্ম সচিব মুফতি শামিম শওকত, সভাধিপতি উত্তম বারিক, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ও পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
গত ২৩ডিসেম্বর পানের গুছি নিয়ে সমস্যা মেটাতে কলকাতায় একটি মিটিং হয়। সেখানে ঠিক হয়, বাংলা ও মিঠা দুই ক্ষেত্রে ৭০টি পান নিয়ে গুছি হবে। সেই গুছিতে এর চেয়ে কম কিংবা বেশি পান থাকবে না। নিলামে সর্বোচ্চ রেট চাষি পাবেন। গুছির মধ্যে পচা কিংবা নষ্ট হওয়া পান থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি তোলেন। চাষিদের একাংশ সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আগের মতোই গুছিতে ১০০ থেকে ১১০টি পর্যন্ত পান দিচ্ছেন। এটি নজরে আসার পরই পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪পরগনায় পান চাষিদের নিয়ে ফের আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন বেচারামবাবু।
এদিনের মিটিংয়ে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ই সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন বলে কথা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে উভয় শিবির থেকে কিছু প্রস্তাবও এসেছে। যেমন, সালমোনেলা নামে একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার জন্য বিদেশে পান রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। এই ব্যাকটেরিয়া কীভাবে রোধ করা যায় এবং রপ্তানির জন্য পানের গুণগত মান বৃদ্ধি করার জন্য ল্যাব তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এছাড়াও সরাসরি কলকাতা থেকে কার্গো প্লেনের মাধ্যমে পান যাতে বিদেশে যায় সেই আবেদনও এসেছে। কৃষি-বিপণন মন্ত্রী বলেন, এইসব দাবি যুক্তিযুক্ত। আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছি। এদিনের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন বলে কথা দিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ২০ফেব্রুয়ারি কলকাতায় একটি মিটিং হবে। সেখানে দুই জেলার পান ব্যবসায়ী ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা হবে। দক্ষিণ ২৪পরগানর মতো পূর্ব মেদিনীপুরেও চারটি মিটিং হবে। আগামী ২৪ফেব্রুয়ারি নিমতৌড়ি ও কাঁকটিয়া বাজারে মিটিং হবে। ২৮তারিখ খেজুরি ও দীঘায় দু’টি মিটিং হবে। চাষিদের সচেতন করতেই এই মিটিং হবে। পানের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য উদ্যানপালন দপ্তরের সহযোগিতা নেব। প্রয়োজনে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নেব। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪পরগনার পান যাতে বিশ্ববাংলা ব্যান্ডে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ