Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গাছের ডাল কাটার জন্য বিনা রসিদে ১০ হাজার টাকা পঞ্চায়েত সচিবকে

গাছের ডাল কাটার জন্য বিনা রসিদে ১০ হাজার টাকা পঞ্চায়েত সচিবকে
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: কোনও রসিদ ছাড়াই দশ হাজার টাকার বিনিময়ে গাছের ডাল কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই কাজে মধ্যস্থতার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ডেবরার রাধামোহনপুর ১ পঞ্চায়েত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অঞ্চল সভাপতি পঞ্চায়েতের সচিবের ঘরে দাঁড়িয়ে টাকা গুনে সচিবের টেবিলে রাখছেন। এই ভিডিওর সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি বর্তমান। সোমবার ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। পাশাপাশি তৃণমূলও জমায়েত করায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিস বাহিনী। অভিযোগ, আধিকারিকদের পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে বাধাও দেওয়া হয়। পরে পুলিস আধিকারিকদের অফিসে ঢোকার ব্যবস্থা করে। 
Advertisement
এদিনই বিডিও প্রিয়ব্রত রাড়ি ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে পঞ্চায়েত প্রধান তনুশ্রী দাস মণ্ডলকে চিঠি দেন। বিডিও বলেন, সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য সুমিত অধিকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানের কাছে ঘটনা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই ভাবে দলের অঞ্চল সভাপতিকে শোকজ করেছে তৃণমূলও। ব্লক সভাপতি প্রদীপ কর বলেন, সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য কিনা তা জানতে অঞ্চল সভাপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁকে তিনদিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সিপিএম ঘটনা অতিরঞ্জিত করে রাজনীতি করছে। 
সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, আমরা দেখতে পাই কয়েকজন ব্যক্তি খিরিশ গাছের কিছু ডাল কাটতে আসেন। তাঁদের কাছে আমরা জানতে পারি, এই ডাল কাটার জন্য পঞ্চায়েত দশ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু কোনও রসিদ দেয়নি। আমরা ডাল কাটা বন্ধ রাখতে বলি। বিডিওকে চিঠি দিয়ে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই। তিনি বলেন, ডাল কাটা হবে বলে পঞ্চায়েতে কোনও আলোচনাও হয়নি। এই কাজে মধ্যস্থতা করেছেন প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। এদিন আমরা সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আসি। বিডিও একজন আধিকারিককে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে। পদ্ধতি মানা হয়নি বলে সচিব স্বীকার করেছেন। 
সচিব সবুজ চক্রবর্তীকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রধান ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন। অঞ্চল সভাপতি বিনোদবিহারি দে বলেন, সেদিন আবাস যোজনা নিয়ে গ্রামসভা থাকায় আমি অঞ্চল অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে খিরিশ গাছের শুকনো ডাল কাটার জন্য  পিংলা থেকে তিনজন যুবক এসেছিলেন। সচিব ডাল কাটার বিনিময়ে পঞ্চায়েতের উন্নয়নের জন্য দশ হাজার টাকা তাঁদের জমা দিতে বলেন। তাঁরা আমাকে সেই টাকা গুনে সচিবকে দিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। আমি সেই মতো টাকা গুনে সচিবকে দিয়ে দিই। সচিব তাঁদের সোমবার অফিসে এসে রসিদ নিয়ে যেতে বলেন। সিপিএম চক্রান্ত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ