নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রকোণা রোড: গড়বেতা ৩ ব্লকের চন্দ্রকোণা রোডে আলুর বীজ কিনতে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে। আলুর বীজ কিনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, ভিন রাজ্য থেকেও চাষিরা আসছেন। মেদিনীপুরের শঙ্কর মাজি বলেন, এই মরশুমে শুরুর দিকে আলুর বীজের দাম অনেকটাই বেশি ছিল। কিন্তু পরের দিকে দাম কমেছে। ফলে ছুটির দিনে আলুর বীজ কেনার ভিড় বাড়ছে। ভিড়ের চাপ এতটাই যে স্থানীয় লেভেল ক্রসিংয়ে মারাত্মক যানজট হচ্ছে।
Advertisement
এবছর শুরুর দিকে আলুবীজের দাম ছিল বস্তা প্রতি ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা। জ্যোতি, পোখরাজ আলুবীজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গত বছরের তুলনায় বীজের দাম যে এবার বেড়েছে, তা স্বীকার করছেন আলুবীজ ব্যবসায়ীরাও। চন্দ্রকোণা রোডে গেটবাজার চত্বরের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহে দাম উঠে গিয়েছিল বস্তাপিছু ৩ হাজার ২০০ টাকায়। পরে অবশ্য দাম কমেছে। বস্তাপিছু আলুর বীজ ২ হাজার ২০০ টাকায় নেমেছে। এক আলু চাষি বলেন, বীজের দাম আরও কমলে ভালো হয়। চন্দ্রকোণা রোড আলুবীজ ব্যবসায়ী সমিতির অন্যতম সদস্য আশিসকুমার মুলা বলেন, ব্যাপক পরিমাণে আলুর বীজ কিনছেন চাষিরা। আলুর বীজের মানও ভালো। তবে আলুবীজ কিনতে এসে চাষিরা যানজটে প্রবল সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভিড়ের চাপে চন্দ্রকোণা রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আলু চাষিদের কথায়, বীজ কেনার পর টোটো, ভ্যান, লরি, পিকআপ ভ্যানে চাপিয়ে আলুর বীজ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গাড়ির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু লেভেল ক্রসিংয়ে ব্যাপক যানজট হচ্ছে। ২ মিনিটের রাস্তা যেত ২০ মিনিট লাগছে। এই এলাকায় ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস হলে তবেই সমস্যার সমাধান হবে। যানজটে চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন। চাষি শঙ্কর মাজির বক্তব্য, লেভেল ক্রসিংয়ে যানজট নিয়ে রেলের ভাবনাচিন্তা করা উচিত। যে কোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।



