Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোবরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি

গোবরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগর-১ ব্লকের গোবরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে একজন মেডিক্যাল অফিসার, নার্স ও ফার্মাসিস্টকে নিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোর পরিষেবা চলছে। রয়েছেন একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকও। যদিও আজ থেকে কয়েক দশক আগে এখানে ছয় বেডের ইনডোর পরিষেবা চালু ছিল। বর্তমানে বেহাল ভবন সহ নানা সমস্যাকে সঙ্গী করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, এখানে ইনডোর পরিষেবা চালু হলে স্থানীয় মানুষের সুবিধা হবে। প্রসূতিরাও উপকৃত হবেন। কারণ গুরুতর কোনও কিছু হলে সেই পাঁচ কিলোমিটার দূরে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালই ভরসা। 
Advertisement
১৯৭৫ সালে রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত অবন্তীকুমার মিশ্রের উদ্যোগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হয়।  উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অজিতকুমার পাঁজা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর সংশ্লিষ্ট গোবরা, পার্শ্ববর্তী বসন্তপুর, হলদিয়া-১ ও হলদিয়া-২ পঞ্চায়েত এলাকার একাংশের বাসিন্দারা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে শতাধিক রোগী হয়। অ্যালোপ্যাথি বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন আনিস মজুমদার। হোমিওপ্যাথি বিভাগের চিকিৎসক অঞ্জন সাধুখাঁ। নার্স শিপ্রা জানা একাই দায়িত্ব সামলান। ফার্মাসিস্ট সুভাষচন্দ্র দাসকে গোবরা ছাড়াও ব্লকের আরও দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পালা করে  ডিউটি করতে হয়। গ্রুপ-ডি স্টাফ, সুইপার নেই। দু’জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন, যাঁরা সুইপারের কাজ সহ অন্যান্য কাজও করেন। কয়েক দশকের পুরনো ভবনেই চলছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। শুধু আয়ুশ (হোমিওপ্যাথি)  বিভাগের জন্য বছর দুয়েক আগে একটি নতুন ভবন তৈরি হয়েছে। এদিকে বৃষ্টি হলেই পুরনো ভবনের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। তখন চিকিৎসক-নার্সদের কাজ করতে অসুবিধা হয়। এই ভবনেই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলে। সেখানে আশাকর্মী সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষেবা দেন। তাঁদের ঘরেরও একই পরিস্থিতি। স্টাফ সহ  চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের জন্য কয়েকবছর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে একটি শৌচালয় করা হয়েছিল। সেটা ব্যবহার হয় না। ঝোপে ঢেকে গিয়েছে। ভবন লাগোয়া একটি শৌচালয়ের চাল বছর চারেক আগে ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ভেঙে পড়ে। আজও মেরামত করা হয়নি।  স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ পরিষেবা যাতে সচল থাকে, তার জন্য ডিজি মেশিন বসানো হয়েছিল। কিন্তু মাস দেড়েক আগে দুষ্কৃতীরা সেই মেশিনের দামি ব্যাটারি খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে ডিজি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে একটি ছোট বাতিস্তম্ভ রয়েছে। সেটাতেও অনেকদিন হল আলো জ্বলে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক-নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য তৎকালীন সময়ে কোয়ার্টার তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সেইসব কোয়ার্টার ঝোপঝাড় ঘেরা ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অবন্তীবাবুর পুত্র ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি বিশ্বরঞ্জন মিশ্র বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুরু থেকেই ইনডোর পরিষেবা চলত। এলাকার বাসিন্দাদের অন্যতম ভরসা ছিল গোবরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার ইনডোর পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। তারপর আর নতুন করে তা চালু হয়নি। আমরা চাই, আবার ইনডোর পরিষেবা চালু করা হোক। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে ঢেলে সাজা হোক। নার্স শিপ্রাদেবী বলছিলেন, ইনডোর পরিষেবা চালু রাখতে গেলে দু’জন চিকিৎসক, তিন-চারজন নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। কিন্তু এখানে কিছুই নেই। তাছাড়া কর্মীর অভাবে এমনিতেই আউটডোর চালানোই মুশকিল। স্বাস্থ্যদপ্তর উদ্যোগী হলে নিশ্চয়ই ইনডোর চলবে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, ইনডোর চালু করার মূল অন্তরায় হল লোকবল। জেলার বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন সমস্যা রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দাবিতে আমরা স্বাস্থ্যভবনে জানিয়েছি। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে সমস্যা মিটবে।  
সম্পর্কিত সংবাদ