Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে দাঁড়াচ্ছেন না, জন্মভূমি শিলিগুড়িই ‘পছন্দ’ গৌতমের

২০১১ থেকে ২০২১। পর পর তিনবার। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে হ্যাট্রিক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে দাঁড়াচ্ছেন না, জন্মভূমি শিলিগুড়িই ‘পছন্দ’ গৌতমের
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ২০১১ থেকে ২০২১। পর পর তিনবার। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে হ্যাট্রিক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শুক্রবার তিনি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন, এই কেন্দ্রে আর প্রার্থী হতে চান না। নিজের জন্মভূমিতে (শিলিগুড়ি) ফিরে যাচ্ছেন। বিধানসভা ভোটের মুখে মেয়রের এমন বক্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিৎবহ। তা হলে এবার শিলিগুড়ির প্রার্থী মেয়র? এনিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। 

Advertisement

পরে গৌতম  অবশ্য বলেন, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে আর ভোটে দাঁড়াতে চাইছি না। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। তবে আমি দলের সৈনিক। এখন দল চাইলে শিলিগুড়িতে প্রার্থী হতে পারি। কাজেই দল যা চাইবে, তাই হবে। 
শিলিগুড়ি শহরের সংযোজিত ওয়ার্ড ও জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের একাংশ নিয়েই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে জয়ী হন গৌতম। সেটা ছিল তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই। প্রথমবারই উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হন। দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে সেখান থেকে জিতে পর্যটনমন্ত্রী হন। তৃতীয়বার ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন। তা হলেও সব মরশুমেই সেখানে ছুটে যান তিনি। এদিনও তিনি ফুলবাড়ি-২ পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধনতলায় জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের একটি শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেই মঞ্চেই আচমকা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রার্থী না হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। বর্ষীয়ান এই নেতার এমন ঘোষণায় বিস্মিত হন স্থানীয়রা। 
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের ওই অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি পুরসভার ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, স্থানীয় তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা ছিলেন। মঞ্চে গৌতমবাবু বলেন, আমি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে প্রার্থী হচ্ছি না। প্রকাশ্যেই আপনাদের কাছে বলে যাচ্ছি। সময়-সুযোগ হলে আপনাদের জন্য কিছু কাজ করব। জোড়াফুল চিহ্নে যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে ভোট দেবেন। তৃণমূলকে জেতাবেন। এটুকু আবেদন রাখছি আপনাদের কাছে। আপনারা যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, আবার যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, দুই’ই আমার মনে আছে। ফুলবাড়ি-২ পঞ্চায়েতেও প্রত্যাশিত জয় হয়নি। মানুষ যা ভালো বোঝে, তাই করে। তাদের উপরে তো কোনো কথা চলে না। মানুষের রায়কে মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। এবার আমি নিজের জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি। 
শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩টি নিয়ে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাটি কামড়ে পড়ে আছেন মেয়র। মানুষের কাছে গিয়ে এলাকার সমস্যা নথিভুক্ত করা থেকে বয়স্কদের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজার প্রভৃতির পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছেন। এমন আবহে জেলা পরিষদের মঞ্চে মেয়রের ওই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপপর্যপূর্ণ। এনিয়েই স্থানীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। 
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, শহরে যেভাবে মেয়র ছুটে বেড়াচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে এখানে তিনিই প্রার্থী হতে পারেন। তাঁর বক্তব্য থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এবার শিলিগুড়িতে তিনিই যোগ্যপ্রার্থী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ