নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সামনেই বর্ষা। অথচ বাগানে শ্রমিকদের বসবাসের ঘরের অবস্থা ভালো নয়। রান্নার জন্য বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে জ্বালানি কাঠ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না। মেটানো হচ্ছে না বকেয়া গ্র্যাচুইটির টাকাও। এরই প্রতিবাদে সরব হলেন জলপাইগুড়ির করলাভ্যালি চা বাগানের শ্রমিকদের একাংশ। রবিবার তাঁরা চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের ব্যানারে গেট মিটিং করেন। বাগান কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের দাবি না মেটানো হলে লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের তরফে। এদিকে, শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের হুমকিতে ক্ষুব্ধ বাগান কর্তৃপক্ষ।
করলাভ্যালি চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার রথীন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, গত দু’বছর ধরে বাগান লোকসানে চলছে। পাতার উৎপাদন কম। দিনে সাকুল্যে পাঁচ-ছ’হাজার কেজি কাঁচা পাতা পাওয়া যাচ্ছে। একজন শ্রমিক গড়ে ১২ কেজির বেশি পাতা তুলতে পারছেন না। এই অবস্থাতেও শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সুবিধাও তাঁরা পাবেন। হয়ত একটু সময় লাগছে।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দাবি, করলাভ্যালি চা বাগানে দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা। কিন্তু তাঁরা ২৪০ টাকার বেশি হাজিরা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি কাঠ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নাবান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। গত বর্ষার আগে বাগানের শ্রমিক মহল্লার ঘর সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে আবারও সামনেই বর্ষা। এখনও ঘর সারানো হয়নি। বাগানে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের গ্র্যাচুইটির টাকা বকেয়া। গ্র্যাচুইটি না পেয়ে তাঁরা প্রচণ্ড অর্থকষ্টে রয়েছেন। অনেকে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বারবার বলার পরও বাগান কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই।
এনিয়ে ম্যানেজারের অবশ্য বক্তব্য, বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে বাগান চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের বলা হয়েছিল, বাগানে পাতার উৎপাদন বাড়লে ধীরে ধীরে তাঁদের দাবি পূরণ করা হবে। কিন্তু তাঁরা তা শুনছেন না। এমনটা চলতে থাকলে বাগান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। - নিজস্ব চিত্র।