


মনীষা মুখোপাধ্যায়: বাঙালি নাকি পেটরোগা! সকাল সকাল গ্যাসের ওষুধ, কিছু হলেই ভিলেন গ্যাস! ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েও অকারণে --- 'একটা গ্যাসের বড়ি লিখে দিন না '- র আবদার। বাঙালির পেটের সমস্যা ও তার চিকিৎসা নিয়ে এমন নানা রসিকতা শোনা যায় চিকিৎসামহলে।
তবে নিয়ম মানলে বাঙালির পেটো থাকতে পারে নিজের আয়ত্তে। শুধু বদলে ফেলতে হবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস। বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ রাজীব সরকার দিলেন পেট ভালো রাখার কয়েকটি টিপস। পাকস্থলির খাবার হজম থেকে অন্ত্রেকে সুস্থ রাখার এই কয়েকটি নিয়ম মানলে পেটের সমস্যা দূরে থাকবে।
১) সকালে খালিপেটে জিরে ভেজানো গরম জল খান। আগের দিন রাতে জিরে ভিজিয়ে রাখুন। সেই জল হালকা গরম করে ছেঁকে খান। এতে সারাদিনের খাটাখাটনির জন্য পাকস্থলি তৈরি থাকবে।
২) সকালের জলখাবার পেট ভালো রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উচ্চমাত্রায় ফাইবার রয়েছে এমন জলখাবার খান। প্রাতরাশের শেষে টক দই থাকুক পাতে। এটি প্রোবায়োটিকের কাজ করবে।
৩) সারাদিনই জল খাওয়ার পরিমাণ খেয়াল রাখতে হবে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় জল নিয়মিত খেতে হবে।
৪) ঘন ঘন চা কফির অভ্যাস ছাড়তে হবে। সকাল বিকেল এক কাপ করে লিকার চা যথেষ্ট। বিস্কুট কম খেতে হবে। তার বদলে মাখনা বা শুকনো মুড়ি অল্প পরিমাণে খান।
৫) বাজার চলতি সিরিয়াল (মুজলি, কর্ন ফ্লেক্স) এসব খাওয়ার চেয়ে বাড়িতে বানানো রুটি তরকারি বা সাধারণ ওটস, ডালিয়া দিয়ে টিফিন সারুন।
৬) অনেকের দুধ সহ্য হয় না। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে নিত্য খাবারে দুধের বদলে ছানা যোগ করুন।
৭) খেতে খেতে জল খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। বরং খাওয়ার দশ মিনিট আগে জল খেয়ে নিন। খাওয়ার আধ ঘণ্টা পর ফের জল খাবেন।
৮) রান্নায় শুকনো লঙ্কা, গুঁড়ো লঙ্কার ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে ভালো। তেলমশলাতেও রাশ টানতে হবে।
৯) কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে খাবারে ফাইবার বেশি করে যোগ করুন। সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও পাতে প্রোটিন ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
১০) নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। অন্তত ৪০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কোনও শারীরিক কসরতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। শরীরচর্চা করলে সামগ্রিক শরীর ভালো থাকে। লিভার ভালো রাখার বিশেষ কিছু ব্যায়ামও আছে।
১১) বিয়েবাড়ি, উৎসব ও নিমন্ত্রণে খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম হলে আগেরদিন ও পরেরদিন হালকা খান। পেটপুরে কখনও খাবেন না। বরং বারবার করে অল্প অল্প খান। নিমন্ত্রণ বাড়িতেও খাবারের মাত্রার দিকে সতর্ক হন।
১২) কোল্ড ড্রিঙ্ক খেয়ে খাবার হজম করার মধ্যে কোনও বিজ্ঞান নেই। এতে থাকা সোডা ঢেকুর তুললেও খাবার হজম হতে বাধা দেয়। বরং ভারী খাওয়া হলে খাওয়ার পর অন্তত মিনিট ২০ হালকা পায়ে হাঁটুন।
এই এক ডজন নিয়ম মেনে চললেই উৎসবের আবহে পেট থাকবে সুস্থ।