Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টানা ৩ দিন ছুটি, পুজোয় কেনাকাটা করতে উপচে পড়া ভিড় গড়িয়াহাট ও হাতিবাগানে

শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর ছুটি, তারপর শনি ও রবিবার ছুটি। টানা তিনদিন ছুটি তার উপর মাসের পয়লাও। ফলে পুজোর কেনাকাটার ভিড় উপচে পড়ল শহরের বাজারগুলিতে।

টানা ৩ দিন ছুটি, পুজোয় কেনাকাটা করতে উপচে পড়া ভিড় গড়িয়াহাট ও হাতিবাগানে
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর ছুটি, তারপর শনি ও রবিবার ছুটি। টানা তিনদিন ছুটি তার উপর মাসের পয়লাও। ফলে পুজোর কেনাকাটার ভিড় উপচে পড়ল শহরের বাজারগুলিতে। হাতিবাগান, নিউমার্কেট, গড়িয়াহাটে তিল ধারণের জায়গা নেই। পরের শনিবার মহালয়া। তারপরই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে বাঙালির সেরা উৎসবের। সবমিলিয়ে দুর্গাপুজো আসতে আর হাতেগোনা মাত্র ১২ দিনের দেরি। ফলে শেষমুহূর্তের কেনাকাটা করতে ব্যস্ততার শেষ নেই। দোকানদারদের আশা, আজ রবিবার বিকিকিনি আরও বাড়বে।

Advertisement

গড়িয়াহাট চত্বর ভিড়ের আভাস দিয়েছিল শুক্রবারই। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে ট্রাফিক সার্জেন্টদের পাশাপাশি ট্রাফিক ওয়ার্ডেনদেরও মোতায়েন করতে বাধ্য হয় লালবাজার। যদিও নিউমার্কেট ও হাতিবাগানে দেখা মেলেনি ওয়ার্ডেনদের। শনিবার ভিড়ের আরও এককদম এগিয়ে। এদিন নিউমার্কেটে তিল ধারণের জায়গা নেই। শ্রীরাম আর্কেড, হগ মার্কেটের সামনে পা ফেলার মতো রাস্তা পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিড়ের মধ্যে বিক্রেতারা হাঁকছেন, ‘স্পেশাল সেল, স্পেশাল সেল।’ কেউ আবার বলছেন, ‘টপ, কুর্তি সব ফ্ল্যাট রেট ২০০ টাকা’। সেই হাঁক শুনে ছুটছেন ক্রেতারা। ভিড়ের নিরিখে একই অবস্থা হাতিবাগানেরও। রাস্তার উপরে যানবাহন চলাচল করা একসময় দায় হয়ে ওঠে। মহিলাদের বেশিরভাগেরই নজর অলংকারে। কসবা থেকে হাতিবাগানে গিয়েছিলেন মোনালি দাস। তিনি বললেন, ‘জামাকাপড় কেনাকাটা তো হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কানের দুল, হার কেনার জন্য হাতিবাগানের জুড়ি মেলা ভার। তাই প্রতিবছর নিয়ম করে এখান থেকেই শেষমুহূর্তের কেনাকাটা করি।’ শ্যামবাজারে ব্যাপক ভিড়ের জেরে কিছুক্ষণের জন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয় পুলিশ।
গড়িয়াহাটের অবস্থা দেখলে মনে হবে পুজো যেন শুরু হয়ে গিয়েছে। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে রাসবিহারী মোড়ে নামার পর দেখা গিয়েছে ঢাকে সত্যিই কাঠি পড়ে গিয়েছে। ৪জন ঢাকি সেখানে ঢাক বাজাচ্ছেন। পুজোর মুড বেঁধে দিচ্ছেন তাঁরাই। ঢাকের শব্দে অনেকে মাথা দোলাতে দোলাতে অটো, বাস ধরছেন। তাঁদের গন্তব্য যদিও গড়িয়াহাট কিন্তু বেশিরভাগই নেমে পড়েন হিন্দুস্তান পার্কে। কারণ জ্যাম ঠেলে গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে বহু দেরি। ফলে হেঁটে ফুটপাত-শপিং শুরু করলেন ক্রেতারা। আলিয়া কাট, হাকোবা, ভি-নেকস হল্টার নেক টপ, কুর্তি, ব্লাউজ কিনতে দোকানের সামনে রীতিমত লাইন তরুণীদের। শুধু জামাকাপড় নয়, ব্যাগ, জুতোর প্লাস্টিক নিয়েও বহু মানুষ ঘুরছেন। তবে ঘাম আর ভিড়ের চাপে অতিষ্ঠ প্রত্যেকে।
বিক্রেতাদের বক্তব্য, শুক্রবার থেকেই ভিড় দেখছি। আসলে মাসের প্রথমেই পরপর তিনদিন ছুটিতে ক্রেতাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদেরও ভালো। আমরা চাই ক্রেতারা আসুন। আজ রবিবার আরও ভিড় চাইছেন তাঁরা। গড়িয়াহাটের হকার সমীর রায়ের কথায়, ‘পুজোর আগে আর দু’টো রবিবার মাত্র বাকি। তাই ক্লান্তি ভুলে শুধুই জিনিস বিক্রি করতে সময় দিতে হবে। রবিবার সকাল ১০টা থেকেই সব দোকান খুলে যাবে। সকালের দিকে ভিড় কিছুটা হলেও কম থাকবে। কিন্তু বিকেলের পর গড়িয়াহাট হবে জনসমুদ্র’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ