নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনকয়েক আগের ঘটনা। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ সারাদিনের কাজকর্ম শেষে ক্লান্ত শরীরে ভিড় মেট্রোতে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিণ শহরতলির মানুষ। মহানায়ক উত্তমকুমার অর্থাত্ টালিগঞ্জ স্টেশন পৌঁছনোর পর আচমকা রেক খালি করে দেওয়ার নির্দেশ। কী হল? প্রশ্ন সবার। যাঁরা কবি সুভাষ বিপর্যয় পরবর্তী সময় মেট্রোতে উঠছেন, সেই মানুষরা এই সমস্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সবাই নন। তাঁরা অবাক এবং বিরক্ত। মেট্রো থেকে নামার পর দেখা গেল গোটা টালিগঞ্জ স্টেশন ভিড়ে গিজগিজ করছে। সকলের মুখে একটাই কথা, ‘নিত্যদিন এই সমস্যা শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যেই এক-একটা গাড়ি টালিগঞ্জে আসার পর খালি করে দিতে বলছে। এখন আবার পরের ভিড় ঠাসা মেট্রোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।’
অগত্যা পরের মেট্রোর জন্য অপেক্ষা। মিনিট তিনেক বাদে সে ট্রেন আসার পর ঝামেলা গেল আরও বেড়ে। কারণ সে মেট্রো এল ভিড় ঠাসা অবস্থায়। তার উপর আরও ভিড় যোগ হল। ফলে হয়রানির একশেষ। তবে এখানেই শেষ নয়। সেই মেট্রো গড়িয়ার দিকে যাত্রা শুরু করল। এবং টালিগঞ্জের পর প্রত্যেকটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকল কম করে চার থেকে পাঁচ মিনিট। যাত্রীদের অভিযোগ, এভাবেই বাড়ি ফেরার পথে প্রায় প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সবাইকে। আশিস মুখোপাধ্যায় নামে এক নিত্যযাত্রী বলেন, ‘ফেরার সময় দেখছি প্রায় প্রতিটি স্টেশনে দরজা খুলে মেট্রো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে। আমরা তাড়াতাড়ি এবং একটু ভালোভাবে বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রো ধরি। কিন্তু তাড়াতাড়ি হচ্ছে না। এই সমস্যা শুরু হয়েছে।’ গড়িয়ার বাসিন্দা সুকল্প চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার আর দেড় বছর চাকরি আছে। এই বয়সে এমন সমস্যায় পড়ে খুব অসহায় লাগছে। মাঝে মধ্যেই দেখছি টালিগঞ্জে মেট্রো দাঁড় করিয়ে রাখছে। নেমে পরের মেট্রোর জন্য অপেক্ষা। প্রবল ভিড় ঠেলে উঠতে হচ্ছে। এখন দেখছি মেট্রোতে চলাচল খুবই সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ অধিকাংশ নিত্যযাত্রীর প্রশ্ন, ‘যতদিন কবি সুভাষ স্টেশন ঠিক না হচ্ছে ততদিন কি এই সমস্যাই চলবে?’ মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যত তাড়াতড়ি সম্ভব সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা হচ্ছে।
কিন্তু এমন ধরনের সমস্যা তো আগে হতো না। তাহলে এখন কেন হচ্ছে? কলকাতা মেট্রোর এক আধিকারিকের কথায়, ‘মাঝে মধ্যে টালিগঞ্জ স্টেশনে আমাদের মেট্রো খালি করতে বলতেই হচ্ছে। আমরা কবি সুভাষ স্টেশন ব্যবহার করতে পারছি না। ফাঁকা গাড়ি সেখানে গিয়ে ফিরে আসছে। তার ফলে মহানায়ক উত্তরকুমারের পর থেকে অনেক গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। ফলে প্রয়োজন পড়লে আমরা মাঝে মধ্যে মহানায়ক উত্তমকুমার স্টেশনে গাড়ি খালি করে দিচ্ছি। সেই গাড়িটিই তখন দক্ষিণেশ্বরের দিকে চালানো হচ্ছে। আমরা এর বিকল্প চিন্তাভাবনা অবশ্য করছি।’
সেই বিকল্প চিন্তা যতদিন না বাস্তবের মুখ দেখছে, সাধারণ যাত্রীদের ততদিন সমস্যা পোহাতে হবে? এই বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এর পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ, ‘স্টেশনের বোর্ডে মেট্রোর সময় যা ফুটে উঠছে, এখন বেশিরভাগ সময় সেই সময় সারণি মেনে মেট্রো চলাচল করছে না।’