Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রহড়ার মধুসূদনকে ‘মামা’ নামে চিনত গ্যাংস্টার সুবোধ সিং

‘মামা’র সঙ্গে তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। কলকাতায় সক্রিয় তার গ্যাংয়ের সদস্যদের অস্ত্র জোগাচ্ছে রহড়ার বাসিন্দা মামাই

রহড়ার মধুসূদনকে ‘মামা’ নামে চিনত গ্যাংস্টার সুবোধ সিং
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মামা’র সঙ্গে তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। কলকাতায় সক্রিয় তার গ্যাংয়ের সদস্যদের অস্ত্র জোগাচ্ছে রহড়ার বাসিন্দা মামাই। রাজ্য পুলিসের জেরায় এমনটাই দাবি করেছিল জেলবন্দি গ্যাংস্টার সুবোধ সিং। এই মামাই যে রহড়ার মধুসূদন মুখোপাধ্যায় ওরফে লিটন, সেবার প্রথম জেনেছিলেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই গুলি-বন্দুকের কারবারি এই ‘মামা’র উপর নজর ছিল তদন্তকারীদের। এমনকী বেউর জেলে থাকার সময়ে তার নির্দেশমতো মামা যে গ্যাংয়ের শার্প শ্যুটারদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে, তাও জেরায় জানিয়ে গিয়েছিল গ্যাংস্টার সুবোধ।

Advertisement

মধুসূদনের সঙ্গে বিহারের গ্যাংস্টারদের যে যোগাযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যেই তাকে জেরা করে জেনেছেন তদন্তকারীরা। দুই ২৪ পরগনা, হুগলিতে অপরাধ জগতের কিংপিনরা লিটনের কাছ থেকে নাইন এম এম বা সেভেন এম এম পিস্তল কিনেছে। ভদ্রবেশী এই  অস্ত্র কারবারির জাল যে কতদূর ছড়িয়েছে, বছর খানেক আগেই জেনেছিল রাজ্য পুলিস।  তার উপর যে ‘নজরদারি’ চলছে, তা লিটনকে কোনওভাবেই বুঝতে দেননি তদন্তকারীরা। ২০২৪’এর জুন মাসে বিহারের বেউর জেল থেকে কলকাতায় আনা হয় গ্যাংস্টার সুবোধ সিংকে। রাজ্য পুলিসের অফিসাররা সুবোধকে জেরা করে জানতে পারেন, উত্তর ২৪ পরগনায় তার ‘স্ট্রং নেটওয়ার্ক’ রয়েছে।  শ’খানেকের বেশি যুবক কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে শার্প শ্যুটারও। তার কথামতো এখান থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অপারেশনে যাচ্ছে। অপারেশন চালানোর জন্য কলকাতাতেই ‘অস্ত্রাগার’  রয়েছে। যার ‘সুপারভাইজার’ লিটন নিজে। তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিচ্ছে তার শাগরেদরা। অপারেশন শেষে তার কাছে ডিপোজিট হচ্ছে আর্মস। এই মামা আবার মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে। সুবোধ জেরায় জানিয়েছিল,  শাগরেদরা তার কথামতো আর্মসও কিনছে এই মামার কাছ থেকেই। এমনকী কী জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন, কাকে দিতে হবে, সবটাই সে আগাম জানাত মামাকে। কিন্তু এই মামার আসল নাম কি?  তার খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার আসল নাম মধুসূদন। সুবোধও বিষয়টি নিশ্চিত করে যায়। এই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে ধরেই গোয়েন্দারা সুবোধ গ্যাংয়ের কারা উত্তর ২৪ পরগনায় সক্রিয়, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন। অফিসারদের মূল লক্ষ্য হল, এই গ্যাংয়ে থাকা শার্প শ্যুটারদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া। যাতে তাদের জালে ফেলা যায়।  তদন্তকারীরা জেনেছেন, অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার হওয়া রহড়া এলাকার দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী জেলে বসে মধুসূদনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা আর্মসের অর্ডার দিয়েছিল। ধরা পড়ার কয়েকদিন আগে ওই দুষ্কৃতীদের শাগরেদদের  কাছে আর্মস পৌঁছে দিয়েছিল সুবোধ সিং বর্ণিত মামা ওরফে মধুসূদন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ